দামেস্কে সালাহউদ্দিনের মাজার সংস্কারে তুরস্কের সহায়তা

পড়তে ১ মিনিট

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে সালাহউদ্দিন আল-আইয়ুবীর মাজার

তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (TİKA) সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে অবস্থিত সালাহউদ্দিনের মাজারের সংস্কারকাজ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে। মাজারটি ঐতিহাসিক উমাইয়া মসজিদের পাশে অবস্থিত। এটি দামেস্কের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

সংস্থাটি তাদের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক পোস্টে সংস্থাটি জানিয়েছে, মাজারটির সংস্কার ও পুনর্বাসনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থাপনাটির ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এর ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

দামেস্কে সালাহউদ্দিন আল-আইয়ুবীর মাজারের অভ্যন্তরীণ দৃশ্য।

দামেস্কে সালাহউদ্দিন আল-আইয়ুবীর মাজারের অভ্যন্তরীণ দৃশ্য।


মাজারটিতে সমাহিত রয়েছেন আইয়ুবীয় রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা সালাহউদ্দিন আল-আইয়ুবী। ১১৮৭ সালে হাত্তিনের যুদ্ধে বিজয়ের পর তিনি ক্রুসেডারদের কাছ থেকে জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করেন। ১১৯৩ সালে দামেস্কে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মাজারটি সিরিয়ার রাজধানীর ঐতিহাসিক এলাকায়, উমাইয়া মসজিদের কাছেই অবস্থিত।

বিলাল আল-হাবশীর মাজার

দামেস্কের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে নেওয়া আরেকটি পৃথক উদ্যোগের অংশ হিসেবে টিআইকেএ ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবি বিলাল আল-হাবশীর মাজারের সংস্কার ও পুনর্বাসনকাজ সম্পন্ন করার ঘোষণা দেয়।

সংস্থাটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এ প্রকল্পের আওতায় মাজারটির অভ্যন্তরীণ ও বাইরের দেয়াল এবং সম্মুখভাগ সংস্কার করা হয়। পাশাপাশি ঐতিহাসিক পাথরের উপরিভাগ ও মার্বেলের কবরফলক পরিষ্কার, ছাদের নিরোধকব্যবস্থা (ইনসুলেশন) নবায়ন, কার্পেট পরিবর্তন এবং স্থাপনাটির ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। সময়ের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোও সংস্কার করা হয়েছে।

প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষিত রাখা।

সুলায়মানিয়া তেক্কিয়ার সংস্কার

দামেস্কের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে তুরস্কের এই সহযোগিতা সুলায়মানিয়া তেক্কিয়া কমপ্লেক্স পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার পুরাকীর্তি ও জাদুঘর অধিদপ্তর ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটির পুনর্বাসনকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে টিআইকেএর সঙ্গে সহযোগিতার একটি চুক্তির কথা জানায়।

অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬ থেকে ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কারিগরি সমস্যাগুলোর সমাধান এবং সংস্কার ও পুনর্বাসনকাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি নেওয়া হয়।

ষোড়শ শতকে উসমানীয় (অটোমান) সুলতান সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্টের শাসনামলে নির্মিত সুলায়মানিয়া তেক্কিয়া দামেস্কের অন্যতম বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন। কয়েক শতাব্দী ধরে এই কমপ্লেক্স ধর্মীয়, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখানে রয়েছে একটি মসজিদ এবং ঐতিহাসিকভাবে মুসাফিরদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা। এ ছাড়া কমপ্লেক্সটিতে শিক্ষামূলক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্যও বিভিন্ন স্থান রয়েছে।

তেক্কিয়া সুলায়মানিয়া–সিরিয়ার দামেস্কে বারাদা নদীর তীরে অবস্থিত উসমানীয় আমলের (অটোমান) ঐতিহাসিক স্থাপত্য কমপ্লেক্স।


২০২৬ সালের অক্টোবরের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমপ্লেক্সটির সংস্কারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং অগ্রগতির হার ৯৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। তবে, প্রকল্পটির সরাসরি বাস্তবায়নে টিআইকেএর ভূমিকা সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য নথিপত্র না পাওয়া পর্যন্ত বাকি কাজের পুরো কৃতিত্ব শুধু সংস্থাটিকে দেওয়া সমীচীন হবে না। কারণ, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা চুক্তিতে অংশ নেওয়া এবং মাঠপর্যায়ে সরাসরি সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা—এ দুটি বিষয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে টিআইকেএর ভূমিকা

টিআইকেএ তুরস্ক সরকারের উন্নয়ন সহযোগিতা ও সমন্বয়বিষয়ক একটি সংস্থা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংস্থাটি নানা ধরনের উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক স্থাপনা সংস্কার এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ।

এ ক্ষেত্রে সংস্থাটির কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে মাজার ও ঐতিহাসিক ভবন সংস্কারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য কমপ্লেক্সের পুনর্বাসন। এসব উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হলো ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখা এবং সেগুলোর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।

এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন