২০২৮ সালে ইসলামিক অর্থনৈতিক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব ওআইসির

পড়তে ১ মিনিট

কমসেক-এর ৪২তম অধিবেশন | ছবি : সংগৃহীত


মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সদস্য দেশগুলোর অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২০২৮ সালে প্রথমবারের মতো ইসলামিক অর্থনৈতিক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। একই সঙ্গে সম্মেলনটি পর্যায়ক্রমে আয়োজনেরও আহ্বান জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব ইসমাইল ওল্ড শেখ আহমেদ।

গত ২ নভেম্বর ২০২৬, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাবিষয়ক স্থায়ী কমিটির (কমসেক) ৪২তম অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

মহাসচিব বলেন, প্রস্তাবিত ইসলামিক অর্থনৈতিক শীর্ষ সম্মেলন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন গতি দেওয়ার পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি অভিন্ন কৌশলগত দিকনির্দেশনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর অর্থনীতিকে সমর্থন ও শক্তিশালী করার জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা প্রণয়ন করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ওআইসির উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, ইসলামিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও কার্যকর কৌশল প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

শেখ আহমেদ প্রস্তাবিত সম্মেলনের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ওআইসির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাবিষয়ক স্থায়ী কমিটি (কমসেক), ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক গ্রুপ (আইএসডিবি), ইসলামিক দেশগুলোর পরিসংখ্যান, অর্থনৈতিক ও সামাজিক গবেষণা এবং প্রশিক্ষণকেন্দ্র (সেসরিক) এবং ওআইসির অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে কমসেক ওআইসির প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ অব্যাহত রাখবে।

মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ওআইসি মহাসচিব সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক বাধা কমিয়ে আনার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানো এবং বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক সমন্বয় জোরদারের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

তিনি আরও বলেন, সদস্য দেশগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও টেকসই উন্নয়নের প্রসারে আর্থিক সহযোগিতাকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি আর্থিক সংহতি সুদৃঢ় করার মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে হবে।

খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উন্নয়নকে মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান মহাসচিব। তিনি বলেন, ওআইসির কাঠামোর আওতায় অর্থনৈতিক সংহতি এগিয়ে নিতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সংযোগব্যবস্থা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে পর্যটন খাতের উন্নয়নেও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে কমসেক ও ওআইসির লক্ষ্য বাস্তবায়নে ধারাবাহিক সহযোগিতা এবং অবিচল প্রতিশ্রুতির জন্য তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জানান ইসমাইল ওল্ড শেখ আহমেদ।

ওআইসির এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, আর্থিক সহযোগিতা ও পর্যটন খাতে পারস্পরিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন