সিনেটের পর এবার প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও নিলো ডেমোক্র্যাটিক পার্টি
লেখক:


নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি | ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এবার নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের দখলে নিতে যাচ্ছে দলটি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টির বিরুদ্ধে ভোটারদের এই রায়কে সাম্প্রতিক মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে রিপাবলিকান পার্টি। এর ফলে আগামী ৩ জানুয়ারি নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে ডেমোক্র্যাটদের। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম কংগ্রেসের দুই কক্ষের ওপর নিজের দলের নিয়ন্ত্রণ হারাতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। এর একটি উচ্চকক্ষ সিনেট এবং অন্যটি নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ। প্রতিনিধি পরিষদের মোট আসন ৪৩৫টি। এই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে কোনো দলকে কমপক্ষে ২১৮টি আসনে জয়ী হতে হয়। নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের হাতে ছিল ২২০টি আসন এবং ডেমোক্র্যাটদের হাতে ছিল ২১৫টি আসন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের অন্তত তিনটি আসন বাড়ানো প্রয়োজন ছিল।
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সেই লক্ষ্য ছাড়িয়ে গেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় রিপাবলিকানদের প্রভাবশালী ও দীর্ঘদিনের প্রতিনিধিদের পরাজিত করে আসন পুনরুদ্ধার করেছে দলটি। বিশেষ করে পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া, নিউ জার্সি, ইন্ডিয়ানা, কলোরাডো ও নর্থ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রিপাবলিকানদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে হার
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় সাফল্যের অন্যতম দিক হলো রিপাবলিকানদের দখলে থাকা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসন পুনরুদ্ধার। পূর্ব উপকূল থেকে শুরু করে টেক্সাসের রিও গ্রান্ডে উপত্যকা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। গত নির্বাচনে এসব এলাকার অনেক আসনেই জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্পের দলের প্রার্থীরা।
পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান দলের চারজন বর্তমান প্রতিনিধি পরাজিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, রায়ান ম্যাকেঞ্জি, রব ব্রেসনাহান ও স্কট পেরি।
অঙ্গরাজ্যটির প্রথম কংগ্রেসনাল জেলায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বব হার্ভি রিপাবলিকান ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিককে পরাজিত করেছেন। ফিটজপ্যাট্রিক দুই দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘প্রবলেম সলভার্স ককাস’-এর অন্যতম নেতা ছিলেন। এই ককাসের মূল লক্ষ্য ছিল দলীয় বিভাজনের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে সমঝোতা তৈরি করা।
পেনসিলভানিয়ার সপ্তম কংগ্রেসনাল জেলায় ডেমোক্র্যাট বব ব্রুকস পরাজিত করেছেন রিপাবলিকান রায়ান ম্যাকেঞ্জিকে। অষ্টম জেলায় পেইজ কগনেটি হারিয়েছেন রিপাবলিকান রব ব্রেসনাহানকে। অন্যদিকে দশম জেলায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জ্যানেল স্টেলসন পরাজিত করেছেন রিপাবলিকান স্কট পেরিকে। স্কট পেরি কট্টর ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত ‘ফ্রিডম ককাস’-এর সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।
ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাটরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন। ভার্জিনিয়া বিচ শহরকেন্দ্রিক নির্বাচনী এলাকায় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাবেক প্রতিনিধি ইলেইন লুরিয়া রিপাবলিকান জেন কিগানসকে পরাজিত করে নিজের পুরোনো আসন পুনরুদ্ধার করেছেন।
এ ছাড়া রিচমন্ডের বাইরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট শ্যানন টেলর দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান প্রতিনিধি রব উইটম্যানকে পরাজিত করেছেন। এই জয়কে অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউ জার্সিতেও রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধাক্কা এসেছে। অঙ্গরাজ্যটির প্রতিনিধি টম কিন জুনিয়র পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাট রেবেকা বেনেটের কাছে পরাজিত হয়েছেন।
ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান প্রতিনিধি ভিক্টোরিয়া স্পার্টজও নিজের আসন ধরে রাখতে পারেননি। তিনি কংগ্রেসের প্রথম ইউক্রেনে জন্মগ্রহণকারী সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতৃত্বের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে তাঁর মতবিরোধও দেখা গেছে।
কলোরাডোতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির রাজ্য প্রতিনিধি ম্যানি রুটিনেল রিপাবলিকান প্রতিনিধি গেব ইভান্সকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
নর্থ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাট রিচার্ড ওজেদা জুনিয়রের জয়ও দলটির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি রিপাবলিকান প্রতিনিধি রিচার্ড হাডসনকে পরাজিত করেছেন। হাডসন রিপাবলিকান দলের নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে ছিল দলের বর্তমান প্রতিনিধিদের আসন ধরে রাখা এবং প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখতে সহায়তা করা।
ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের রায়
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটদের এই বিজয় কেবল দলীয় জনপ্রিয়তার প্রতিফলন নয়; বরং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের অসন্তোষেরও বহিঃপ্রকাশ।
বিশেষ করে অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ, ইরানের সঙ্গে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়গুলো নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এসব নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকটি এলাকাতেও ডেমোক্র্যাটদের জয় এই রাজনৈতিক অসন্তোষের ব্যাপকতা তুলে ধরেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে আগামী দুই বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।
কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে থাকায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ বাড়বে বিরোধী দলের। প্রশাসনের নীতি, সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত, শুনানি ও জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নিতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা।
এ ছাড়া নতুন আইন পাস, সরকারি অর্থ বরাদ্দ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ট্রাম্পকে ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতার মুখে পড়তে হতে পারে। ফলে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা থাকলেও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাঁর দলের একক আধিপত্য আর থাকবে না।
আগামী ৩ জানুয়ারি ২০২৭ নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে ডেমোক্র্যাটরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবেন। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে এমন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সূচনা হবে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভিন্ন দলের হাতে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই বিজয়কে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আগামী দিনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এবার নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের দখলে নিতে যাচ্ছে দলটি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টির বিরুদ্ধে ভোটারদের এই রায়কে সাম্প্রতিক মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে রিপাবলিকান পার্টি। এর ফলে আগামী ৩ জানুয়ারি নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে ডেমোক্র্যাটদের। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম কংগ্রেসের দুই কক্ষের ওপর নিজের দলের নিয়ন্ত্রণ হারাতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। এর একটি উচ্চকক্ষ সিনেট এবং অন্যটি নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ। প্রতিনিধি পরিষদের মোট আসন ৪৩৫টি। এই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে কোনো দলকে কমপক্ষে ২১৮টি আসনে জয়ী হতে হয়। নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের হাতে ছিল ২২০টি আসন এবং ডেমোক্র্যাটদের হাতে ছিল ২১৫টি আসন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের অন্তত তিনটি আসন বাড়ানো প্রয়োজন ছিল।
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সেই লক্ষ্য ছাড়িয়ে গেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় রিপাবলিকানদের প্রভাবশালী ও দীর্ঘদিনের প্রতিনিধিদের পরাজিত করে আসন পুনরুদ্ধার করেছে দলটি। বিশেষ করে পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া, নিউ জার্সি, ইন্ডিয়ানা, কলোরাডো ও নর্থ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রিপাবলিকানদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে হার
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় সাফল্যের অন্যতম দিক হলো রিপাবলিকানদের দখলে থাকা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসন পুনরুদ্ধার। পূর্ব উপকূল থেকে শুরু করে টেক্সাসের রিও গ্রান্ডে উপত্যকা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। গত নির্বাচনে এসব এলাকার অনেক আসনেই জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্পের দলের প্রার্থীরা।
পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান দলের চারজন বর্তমান প্রতিনিধি পরাজিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, রায়ান ম্যাকেঞ্জি, রব ব্রেসনাহান ও স্কট পেরি।
অঙ্গরাজ্যটির প্রথম কংগ্রেসনাল জেলায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বব হার্ভি রিপাবলিকান ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিককে পরাজিত করেছেন। ফিটজপ্যাট্রিক দুই দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘প্রবলেম সলভার্স ককাস’-এর অন্যতম নেতা ছিলেন। এই ককাসের মূল লক্ষ্য ছিল দলীয় বিভাজনের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে সমঝোতা তৈরি করা।
পেনসিলভানিয়ার সপ্তম কংগ্রেসনাল জেলায় ডেমোক্র্যাট বব ব্রুকস পরাজিত করেছেন রিপাবলিকান রায়ান ম্যাকেঞ্জিকে। অষ্টম জেলায় পেইজ কগনেটি হারিয়েছেন রিপাবলিকান রব ব্রেসনাহানকে। অন্যদিকে দশম জেলায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জ্যানেল স্টেলসন পরাজিত করেছেন রিপাবলিকান স্কট পেরিকে। স্কট পেরি কট্টর ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত ‘ফ্রিডম ককাস’-এর সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।
ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাটরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন। ভার্জিনিয়া বিচ শহরকেন্দ্রিক নির্বাচনী এলাকায় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাবেক প্রতিনিধি ইলেইন লুরিয়া রিপাবলিকান জেন কিগানসকে পরাজিত করে নিজের পুরোনো আসন পুনরুদ্ধার করেছেন।
এ ছাড়া রিচমন্ডের বাইরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট শ্যানন টেলর দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান প্রতিনিধি রব উইটম্যানকে পরাজিত করেছেন। এই জয়কে অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউ জার্সিতেও রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধাক্কা এসেছে। অঙ্গরাজ্যটির প্রতিনিধি টম কিন জুনিয়র পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাট রেবেকা বেনেটের কাছে পরাজিত হয়েছেন।
ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান প্রতিনিধি ভিক্টোরিয়া স্পার্টজও নিজের আসন ধরে রাখতে পারেননি। তিনি কংগ্রেসের প্রথম ইউক্রেনে জন্মগ্রহণকারী সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতৃত্বের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে তাঁর মতবিরোধও দেখা গেছে।
কলোরাডোতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির রাজ্য প্রতিনিধি ম্যানি রুটিনেল রিপাবলিকান প্রতিনিধি গেব ইভান্সকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
নর্থ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাট রিচার্ড ওজেদা জুনিয়রের জয়ও দলটির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি রিপাবলিকান প্রতিনিধি রিচার্ড হাডসনকে পরাজিত করেছেন। হাডসন রিপাবলিকান দলের নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে ছিল দলের বর্তমান প্রতিনিধিদের আসন ধরে রাখা এবং প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখতে সহায়তা করা।
ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের রায়
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটদের এই বিজয় কেবল দলীয় জনপ্রিয়তার প্রতিফলন নয়; বরং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের অসন্তোষেরও বহিঃপ্রকাশ।
বিশেষ করে অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ, ইরানের সঙ্গে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়গুলো নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এসব নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকটি এলাকাতেও ডেমোক্র্যাটদের জয় এই রাজনৈতিক অসন্তোষের ব্যাপকতা তুলে ধরেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে আগামী দুই বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।
কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে থাকায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ বাড়বে বিরোধী দলের। প্রশাসনের নীতি, সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত, শুনানি ও জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নিতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা।
এ ছাড়া নতুন আইন পাস, সরকারি অর্থ বরাদ্দ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ট্রাম্পকে ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতার মুখে পড়তে হতে পারে। ফলে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা থাকলেও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাঁর দলের একক আধিপত্য আর থাকবে না।
আগামী ৩ জানুয়ারি ২০২৭ নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে ডেমোক্র্যাটরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবেন। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে এমন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সূচনা হবে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভিন্ন দলের হাতে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই বিজয়কে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আগামী দিনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ

