সংস্কারকাজে উন্মোচিত হচ্ছে ইস্তাম্বুলের আয়া সোফিয়ার নিচের লুকানো জগৎ
লেখক:
তুরস্কের ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া গ্র্যান্ড মসজিদ | ছবি : সংগৃহীত
তুরস্কের ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া গ্র্যান্ড মসজিদের নিচে থাকা প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। ঐতিহাসিক স্থাপনাটির সংস্কার ও সংরক্ষণকাজের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার টন কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
মঙ্গলবার তুরস্কের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী মেহমেত নুরি এরসোয় সোমবার থেকে শুরু হওয়া অন্তালিয়া কালচার রুট উৎসবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান। তাঁর মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ বছর চতুর্থবারের মতো উৎসবটির আয়োজন করা হয়েছে।
এরসোয় বলেন, তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে আয়া সোফিয়ায় সবচেয়ে বড় পরিসরে সংস্কার, সংরক্ষণ ও স্থাপনা শক্তিশালীকরণের কাজ পরিচালনা করছে তাঁর মন্ত্রণালয়। বৈজ্ঞানিক কমিটির সদস্যরা এই প্রকল্পকে অটোমান স্থপতি মিমার সিনানের সময়ের পর আয়া সোফিয়ায় সবচেয়ে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি জানান, শুধু মূল গম্বুজ নয়, মেহরাব ও মিম্বর অবস্থিত ভবনের পূর্ব দিকের অর্ধগম্বুজেও স্থাপনা শক্তিশালীকরণের কাজ শুরু হয়েছে।
বৈজ্ঞানিক কমিটি, সংরক্ষণ পর্ষদ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারিশ অনুসারে এসব কাজ পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ইবাদতকারী ও দর্শনার্থীদের জন্য মসজিদটি খোলা রেখে এর মূল স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ জন্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রকৌশলগত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এরসোয় বলেন, আয়া সোফিয়ার ভূগর্ভস্থ ঐতিহাসিক অংশগুলো নিয়ে গবেষণা ও বিস্তৃত পরিসরে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার টন কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরানো হয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক সুড়ঙ্গ, পানিপ্রবাহের নালা এবং ভূগর্ভস্থ কক্ষগুলো পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
তিনি জানান, অনুসন্ধানকাজ এগিয়ে নেওয়ার সময় কর্মীরা ভূগর্ভের কয়েকটি স্থানে অতিরিক্ত ফাঁকা জায়গা ও কক্ষের সন্ধান পেয়েছেন।
এরসোয় বলেন, “এসব স্থাপনা ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক পানি ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ও পানি সরবরাহের মতো কাজে ব্যবহৃত ভূগর্ভস্থ ব্যবস্থাগুলো আমরা পরীক্ষা করছি। কিছু অংশ এতটাই প্রশস্ত যে, সেগুলোর ভেতর দিয়ে মানুষ হেঁটে চলাচল করতে পারে। আয়া সোফিয়ার ভূগর্ভস্থ জগৎটি মাটির ওপরের স্থাপত্যের মতোই আকর্ষণীয়।”
তিনি আরও বলেন, চলমান এ অনুসন্ধান ও সংস্কারকাজের মাধ্যমে আয়া সোফিয়ার এমন কিছু ঐতিহাসিক স্তর উন্মোচিত হবে, যেগুলো বর্তমানে দৃশ্যমান নয়।
১৪৫৩ সালে ইস্তাম্বুল বিজয়ী অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এরসোয় বলেন, “মূল গম্বুজ থেকে শুরু করে ভূগর্ভস্থ স্থাপনা পর্যন্ত পুরো বিষয়টিকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনায় নিয়ে আমরা বিজয়ী সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করছি।”
আয়া সোফিয়া গ্র্যান্ড মসজিদ ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক সুলতানআহমেত এলাকায় অবস্থিত। বিভিন্ন সময়ে একাধিক সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে এই এলাকায়। প্রাচীন হিপোড্রোম ও ব্যাসিলিকা সিস্টার্নসহ বাইজেন্টাইন ও অটোমান আমলের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে এখানে।
আয়া সোফিয়ার ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোও এই বিস্তৃত ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অংশ। এসব স্থাপনা শত শত বছরের নগর উন্নয়ন, পানি ব্যবস্থাপনা ও স্থাপত্যের পরিবর্তনের সাক্ষ্য বহন করছে।
১৯৮৫ সালে আয়া সোফিয়া ও এর আশপাশের ঐতিহাসিক এলাকাগুলোকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।


