ইসরাইলি হামলায় গাজায় পানি সরবরাহ এখন এক প্রাণঘাতী মিশন
লেখক:
গত ২৬ জুলাই মধ্য গাজা ভূখণ্ডের মাগাজি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে একটি জলাধার থেকে পানি ভরার জন্য লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় এক নারী হাত দিয়ে পানি পান করছেন। (ছবি: এএফপি)
অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে সহায়তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর কাছে জরুরি ভিত্তিতে পানি পৌঁছে দেওয়া এখন জীবন বিপন্নকারী এক মিশনে পরিণত হয়েছে। ইসরাইলি হামলায় এখানকার মূল পানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ত্রাণকর্মীদের বিপজ্জনক পথ ব্যবহারে বাধ্য করা হয়েছে, যেখানে চলতি বছরের শুরুর দিকে ইউনিসেফের (UNICEF) দুজন ট্রাক চালক নিহত হন।
উত্তর গাজার মনসুরা পানি সংগ্রহ কেন্দ্রে পানি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করার সময় গত এপ্রিলে ওই ইউনিসেফ ট্রাক চালকরা নিহত হন। নিরাপদে পানি পরিবহনে ব্যবহার করা যেত এমন পাইপলাইনগুলো ইসরাইল ধ্বংস করে দেওয়ার কারণেই এই পানি সরবরাহের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
ইসরাইলি এই হামলাগুলো সাধারণ পরিবারগুলোর বেঁচে থাকাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
কানাডা সফরের সময় রাজধানী অটোয়ায় ক্যানাডিয়ান প্রেস-কে দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইউনিসেফের প্রধান জোনাথন ভিচ বলেন, "মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহ।"
তিনি বলেন, "আমরা শুধু এটুকুই চাচ্ছি যে, একটি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং এই ব্যবস্থাগুলোর কিছু মেরামত করার মাধ্যমে যেন মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলো পূরণ করা যায়।"
ভিচ জানান, পানির পাইপগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো জাতিসংঘের কর্মীদেরই এখন পানি পৌঁছে দিতে হচ্ছে, যা মানুষের জীবন এবং অর্থ উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
তিনি বলেন, "আমাদের প্রতিদিন বারবার ট্রাকে করে পানি সরবরাহ চালিয়ে যেতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এতে কানাডার করদাতাসহ অন্যদের অর্থ অপচয় হচ্ছে। আমরা অত্যন্ত সহজভাবেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারি; পাইপগুলো মেরামত করতে যে যন্ত্রপাতির প্রয়োজন তা এনে লিক বা ছিদ্র কমানো এবং যুদ্ধের সময় নষ্ট বা ধ্বংস হয়ে যাওয়া কিছু পাম্পিং স্টেশন আবার চালু করার মাধ্যমে।"
অন্যদিকে ইসরাইলি বাহিনী দাবি করেছে, হামাস যেন ত্রাণ চুরি করতে না পারে তা ঠেকানোর পাশাপাশি তারা ফিলিস্তিনিদের সহায়তা করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।


