২৫ বছরেও প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার চেষ্টায় সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন
লেখক:
সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
দশ সদস্যের আঞ্চলিক জোট সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে। এ উপলক্ষে ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর কিরগিজস্তানে জোটটির শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে বেলারুশ, চীন, ভারত, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান (আয়োজক), পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের শীর্ষ নেতারা যখন একত্রিত হয়েছেন, তখন বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এসসিওর ভবিষ্যৎ কী?
এর পেছনে রয়েছে ইরান ও ইউক্রেনকে ঘিরে চলমান সংঘাত। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও রাশিয়ার কর্মকাণ্ডের কারণে এসব সংকট আরও জটিল হয়েছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে বহুপক্ষীয় উদ্যোগের পথ অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসসিওর সদস্য দেশগুলোর মধ্যেই এমন আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে, যা গোপন করা কঠিন। ফলে সংঘাত ও বৈশ্বিক সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো ফল অর্জন এবং সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংস্থাটির প্রাসঙ্গিকতা দ্রুত কমে যাচ্ছে।
তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এসসিও মধ্য এশিয়ার সীমান্ত নিরাপত্তাকেন্দ্রিক একটি সংকীর্ণ জোট থেকে ধীরে ধীরে বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। যদিও রাশিয়া ও চীন এ ধরনের সুযোগকে পশ্চিমাবিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার কাজে ব্যবহার করে, তবু বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে এটি যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এসব দেশ মূলত পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার বিকল্প খুঁজছে।
তুরস্কের পাশাপাশি আর্মেনিয়া, আজারবাইজান ও মিসরসহ আরও কয়েকটি দেশ এসসিওর ‘প্লাস ফরম্যাট’ এবং অতিথি/অংশীদার দেশগুলোর কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এসসিওর এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, এখনো এমন কোনো দেশ নেই, যাকে এই জোটের স্বীকৃত নেতৃত্বের মুখ হিসেবে বিবেচনা করা যায় এবং যে সংস্থাটিকে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিতে পারে।
তবুও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি মোটামুটি ভালোই বলা যায়।


