তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যয়
লেখক:
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক | ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও তুরস্কের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই নেতা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কাছে ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আলোচনা
বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি তা বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা।
এ সময় দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা
বৈঠকে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।
দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়েও মতবিনিময় করেন তারা। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানেও গুরুত্ব
বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি, তাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং নিজ ভূমিতে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পথ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেন।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে মতবিনিময়
বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।
পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামেও দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির প্রত্যয়
বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে একমত হন দুই নেতা। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং জনগণের কল্যাণে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও কার্যকর করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বৈঠক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের সঙ্গে এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বিদ্যমান সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।



