গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক পতনের ঝুঁকিতে ইসরাইল : সিআইএ রিপোর্ট
লেখক:
গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ফাটলের কারণে ইসরাইল গৃহযুদ্ধ বা রাষ্ট্রীয় পতনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র একটি গোপনীয় মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে।
চলতি বছরের ৫ অক্টোবর প্রকাশিত ওই মূল্যায়ন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে গাজা, লেবানন ও ইরানে চলমান সংঘাত, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন ইসরাইলকে গুরুতর অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ড্রপ সাইট নিউজ বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত দুই মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইদিন’ (ভেতর থেকে ফাটল) শীর্ষক এই মূল্যায়ন গত আগস্টে সিআইএ’র ‘রেড সেল’ তৈরি করে। এই ইউনিটের দায়িত্ব হলো গোয়েন্দা সংস্থার প্রচলিত ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করা এবং সম্ভাব্য অন্ধত্ব বা একপাক্ষিক চিন্তাভাবনা চিহ্নিত করা।
গোপন মূল্যায়নে বলা হয়েছে, কয়েক বছর ধরে গাজা, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পর ইসরাইল ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের মুখোমুখি হয়েছে। এর ফলে দেশটি গৃহযুদ্ধ অথবা রাজনৈতিক পতনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক ব্যয়ের বৃদ্ধি, অতি-গোঁড়া ইহুদিদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি নিয়ে ক্ষোভ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা দেশটির ওপর চাপ বাড়িয়ে তুলছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার মরিয়া প্রচেষ্টাও সরকারি ও সাংবিধানিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, গাজাবাসীদের হত্যা এবং ইরান ও লেবাননের সঙ্গে চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলেছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ক্লান্ত ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে গুরুতর মানসিক ট্রমার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
বারবার রিজার্ভ সেনা মোতায়েনের কারণে অতি-গোঁড়া ইহুদি পুরুষদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ আরও তীব্র হয়েছে। সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগসংক্রান্ত এই বিতর্ক বর্তমানে ইসরাইলের অন্যতম তীব্র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছে।
তবে সিআইএ’র গোপন মূল্যায়নের অন্যতম প্রধান বিষয় হলো ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা। এমনকি মার্কিন সহায়তাও কমে আসছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতাকে আরও গভীর করতে পারে।
তবে প্রতিবেদনে ইসরাইলের আরব নাগরিকদের পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব নাগরিক হলেও মূল্যায়নটি মূলত ইসরাইলের ইহুদি নাগরিকদের ওপর কেন্দ্রীভূত বলে মনে হচ্ছে।
সিআইএ’র ‘রেড সেল’ এমন বিশ্লেষণ ও মতামত তৈরি করে, যা সংস্থার প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে। এর মাধ্যমে গোয়েন্দা বিশ্লেষণের সম্ভাব্য অন্ধত্ব, একপাক্ষিক চিন্তাভাবনা ও প্রচলিত ধারণার বাইরে থাকা ঝুঁকিগুলো সামনে আনার চেষ্টা করা হয়।


