চলমান অভিযানের মধ্যেই কালান্দিয়া শিবিরের কাছে দোকানপাট গুঁড়িয়ে দিলো ইসরাইলি বাহিনী
লেখক:
কালান্দিয়া শিবির ও কফর আকব শহরে সামরিক যান নিয়ে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের উত্তরে কালান্দিয়া ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরের কাছে বৃহস্পতিবার বাণিজ্যিক দোকানপাট গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। একই সঙ্গে ওই এলাকায় সামরিক বিধিনিষেধও আরও কঠোর করা হয়েছে।
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কালান্দিয়া শরণার্থী শিবির ও আশপাশের এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর বড় ধরনের সামরিক অভিযান চলার মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটল।
জেরুজালেম গভর্নরেটের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইসরাইলি সেনারা মাইকে কফর আকব শহরে কারফিউ জারি করে। এ সময় বিপুলসংখ্যক সামরিক সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে আল-মা'হাদ সড়কসহ জেরুজালেমমুখী বিভিন্ন মোড় ও সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দোকানপাট ধ্বংস এবং সামরিক বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে চলমান অভিযানের দ্বিতীয় দিনেও ইসরাইলি বাহিনী ব্যাপক তল্লাশি ও গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়েছে। এ সময় ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর হামলা এবং তাদের বাড়িঘরকে সামরিক চৌকি হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এর মধ্যেই শিবিরের কাছে দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) অধিভুক্ত কালান্দিয়া রিফ্যুজি ক্যাম্প পপুলার সার্ভিসেস কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আসলান বৃহস্পতিবার সকালে আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, শিবিরের পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত কঠিন’।
তিনি জানান, অভিযানের সময় ইসরাইলি বাহিনীর নির্মম প্রহারে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের মাথার খুলি ভেঙে গেছে। এ ছাড়া কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় ৬০ জনেরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
এর আগে বুধবার ভোরে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের উত্তরে কালান্দিয়া শরণার্থী শিবির এবং পাশের কফর আকব শহরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও নগর, পূর্ব জেরুজালেমসহ, ইসরাইলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই অভিযান চালিয়ে আসছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা আরও বেড়েছে। এতে অন্তত ১ হাজার ১৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত, প্রায় ১৩ হাজার আহত এবং প্রায় ২৪ হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের অভিযানের মধ্যে রয়েছে বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস, মসজিদে অগ্নিসংযোগ, বুলডোজার দিয়ে কৃষিজমি নষ্ট করা, কৃষকদের নিজ জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা। একই সঙ্গে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি অবৈধ বসতি সম্প্রসারণও অব্যাহত রয়েছে।


