প্রাচীন সিরীয় প্রত্নসম্পদ দামেস্কের জাদুঘরে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
লেখক:
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো সিরিয়ার দামেস্কের জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে । ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো ২১টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রাজধানী দামেস্কের জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে।
সিরিয়ার জাদুঘর পরিদপ্তরের পরিচালক আম্মার কেনাভি আনাদোলু এজেন্সিকে (এএ) জানান, প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের বিমানে করেই এসব নিদর্শন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
কেনাভি বলেন, বর্তমান সময়ে এসব প্রত্নসম্পদের প্রত্যাবাসন বিশেষ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বহন করে। যুদ্ধের বছরগুলোতে সিরিয়া থেকে অবৈধভাবে পাচার বা সরিয়ে নেওয়া প্রত্নসম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনা সিরীয় জনগণকে তাদের হারিয়ে যাওয়া পরিচয়ের একটি অংশ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
“প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের প্রত্যাবাসন মানে সিরীয় পরিচয়েরও প্রত্যাবর্তন,” বলেন কেনাভি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সিরিয়া থেকে অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া সব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন একদিন দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তিনি এসব নিদর্শনের প্রত্যাবর্তনকে গৃহযুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত সিরীয়দের নিজ নিজ ঘরে ফিরে আসার সঙ্গে তুলনা করেন।
কেনাভি জানান, দামেস্কে আনার আগে নিউ ইয়র্কে সিরীয় প্রতিনিধি দলের কাছে হস্তান্তর করা ২১টি নিদর্শন বিভিন্ন সময়ের এবং বিভিন্ন ধরনের উপাদানে তৈরি।
ফেরত আসা এসব প্রত্নসম্পদের মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় ও পৌরাণিক চিত্রসম্বলিত চারটি বেলনাকার সিলমোহর (cylinder seals) এবং কয়েকটি ব্রোঞ্জের মূর্তি। তিনি জানান, এর মধ্যে একটি নারীর ব্রোঞ্জের মূর্তি রয়েছে, যার বিশেষ শিল্পকলা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।
কেনাভি বলেন, ধারণা করা হয়, মূর্তিটির উৎপত্তি সিরিয়ার ইউফ্রেটিস বা ফোরাত নদী অববাহিকা অঞ্চলে।
তার মতে, ফেরত আসা সংগ্রহের মধ্যে একটি চকচকে সিরামিকের জগও (glazed ceramic jug) রয়েছে। এটি আইয়ুবীয় আমলের শেষদিকে রাক্কায় তৈরি মৃৎশিল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
যদিও এসব নিদর্শন বিভিন্ন অঞ্চল ও ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক সময়ের প্রতিনিধিত্ব করে, তবু প্রতিটি নিদর্শনেই সিরীয় শিল্পকলার বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে জানান কেনাভি।
সূত্র : ডেইলি সাবাহ



