তুরস্কের ৭৯৮ বছরের প্রাচীন দিভরিগি গ্র্যান্ড মসজিদ দেখছে রেকর্ডসংখ্যক দর্শনার্থী

পড়তে ১ মিনিট

ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকায় থাকা দিভরিগি গ্র্যান্ড মসজিদের একটি ড্রোন চিত্র । ছবি: আনাদোলু এজেন্সি


চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হিসেবে স্বীকৃত ‘দিভরিগি গ্র্যান্ড মসজিদ ও হাসপাতাল’ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছেন প্রায় ৪ লাখ মানুষ।

‘মৃত্যুর আগে এটি না দেখে মরবেন না’—এই স্লোগানে প্রচারিত ৭৯৮ বছরের পুরোনো এই স্থাপত্যটি ৯ বছর ধরে চলা বৃহৎ সংস্কারকাজ শেষে ২০২৪ সালের ৬ মে পুনরায় নামাজ ও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তুরস্কের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের স্বাগত জানিয়ে আসছে ঐতিহাসিক এই স্থাপনা।

ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফাউন্ডেশনসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত এই ঐতিহাসিক স্থানটি প্রায় ৪ লাখ মানুষ পরিদর্শন করেছেন।

দিভরিগি গ্র্যান্ড মসজিদের ইমাম ও স্বেচ্ছাসেবী গাইড নাইল আয়ান আনাদোলু এজেন্সিকে (এএ) জানান, এই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণে কাজ করা ছিল তাঁর শৈশবের স্বপ্ন।

নিজেকে এই স্মৃতিস্তম্ভের সেবায় উৎসর্গ করা এবং স্বেচ্ছাসেবী গাইড হিসেবে কাজ করা আয়ান বলেন, তিনি বছরের পর বছর ধরে এখানে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কারণ, তিনি চান না কোনো দর্শনার্থী এই স্থান সম্পর্কে না জেনে ফিরে যান।

“মানুষকে এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যের কথা জানাতে পেরে আমি শান্তি ও আনন্দ পাই,” তিনি বলেন। “এ সম্পর্কে জানার পর দর্শনার্থীদের চোখে-মুখে যে আনন্দের ঝিলিক দেখা যায় এবং চলে যাওয়ার সময় তাঁদের মনে যে তৃপ্তি ফুটে ওঠে, তা দেখা আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের।”

আয়ান জানান, সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই দর্শনার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।

“পুনরায় চালুর পর সেই মৌসুমের শেষ পর্যন্ত ৭০ হাজার মানুষ এটি পরিদর্শন করেছিলেন। সংস্কারের আগে সাধারণত প্রতি মৌসুমে—যা মূলত মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলে—গড়ে ৩৫ হাজার দর্শনার্থী আসতেন। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা পৌঁছেছিল ২ লাখ ২০ হাজারে। আর চলতি বছরে তা ইতোমধ্যেই ৪ লাখ স্পর্শ করেছে। আমরা আশা করছি, বছরের শেষ নাগাদ এটি ৫ লাখে পৌঁছাবে,” তিনি বলেন।

স্থাপত্যের মহিমায় অভিভূত দর্শনার্থীরা

আয়ান বলেন, দর্শনার্থীরা প্রায়ই এই স্থাপনার মহিমা দেখে অভিভূত হয়ে যান। অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, তুরস্কের মাটিতে, এমনকি সিভাস বা দিভরিগিতে এমন একটি অসাধারণ স্থাপত্য রয়েছে—তা তাঁদের জানা ছিল না।

“যখন তারা এটি সম্পর্কে জানতে পারেন, তখন আমাদের বলেন যে তারা এখানে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং এখানে আসাটা সত্যিই সার্থক হয়েছে,” তিনি জানান। “তাঁরা আরও বলেন, এমন একটি স্থাপত্য নির্মাণ করার জন্য আমাদের পূর্বপুরুষদের নিয়ে তাঁদের গর্বের শেষ নেই।”

আয়ানের মতে, দর্শনার্থীদের মধ্যে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া খুবই সাধারণ।

“এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি অবশেষে তার প্রাপ্য স্বীকৃতি পেয়েছে,” তিনি বলেন। “এটি এমন এক অনন্য স্থাপত্য, যা নিজেই একটি পুরো বিশ্বকোষের মতো।”

সূত্র : ডেইলি সাবাহ



এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন