গাজামুখী নতুন মিশন: তুরস্কে সুমুদ ফ্লোটিলার ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ মেরামত

পড়তে ১ মিনিট

ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র জাহাজগুলো দক্ষিণ তুরস্কের আন্তালিয়ায় মেরামত করা হচ্ছে । ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র জাহাজগুলো তুরস্কের আন্তালিয়ায় মেরামত করা হচ্ছে। গাজার উদ্দেশ্যে নতুন করে যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে স্বেচ্ছাসেবকরা জাহাজগুলো সংস্কার ও মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

হামলার পর কয়েকটি জাহাজের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মাস্তুল ভেঙে যায় এবং পাল ছিঁড়ে যায়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলো আন্তালিয়ায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবকরা একটি শিপইয়ার্ডে সেগুলোর মেরামতের কাজ করছেন।

গাজামুখী আরেকটি মিশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এরই মধ্যে দুটি জাহাজ মেরামত করে ইতালিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সুমেয়রা আকদেনিজ ওর্দূ।

“আমরা সমুদ্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে থাকা জাহাজগুলো একে একে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছি। আমরা একটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছি,” আনাদোলু এজেন্সিকে (এএ) বলেন ওর্দূ। “আমরা জাহাজগুলো মেরামত করছি, যাতে এগুলো আবার গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারে।”

ওর্দূ জানান, বর্তমানে ১৪টি ফ্লোটিলা জাহাজ** আন্তালিয়ায় রয়েছে। বিভিন্ন দেশের স্বেচ্ছাসেবকরাও জাহাজগুলোর সমন্বয় ও মেরামতের কাজে সহায়তা করছেন।

তিনি বলেন, প্রতিটি জাহাজেরই অ্যাক্টিভিস্টদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই জাহাজগুলো পুনরুদ্ধারের সময় তারা এগুলোর যত্ন নিচ্ছেন “নিজেদের সন্তানের মতো”।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক উল্লেখ করে ওর্দূ ভেঙে যাওয়া মাস্তুল, ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিন এবং কেটে ফেলা পাইপ ও হোসের কথা জানান। তিনি আরও বলেন, পালগুলো ছুরি দিয়ে কেটে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল।

“মাস্তুল ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, ইঞ্জিনের ভেতরে সারফেস ক্লিনার ও কফি ঢেলে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রতিটি জাহাজের হোস একে একে কেটে ফেলা হয়েছিল,” তিনি বলেন। “বড় জাহাজ দিয়ে ধাক্কা দিয়েও এসব ক্ষতি করা হয়েছে।”

ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতার কারণে মেরামতের কাজ কঠিন হয়ে পড়লেও স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান ওর্দূ।

তিনি আরও বলেন, এই মেরামত কার্যক্রমের জন্য তুরস্ক একটি নিরাপদ বন্দর সরবরাহ করেছে।

জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও অ্যাক্টিভিস্টরা তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানান ওর্দূ।

“শত্রু যদি হাল না ছাড়ে, আমরাও হাল ছাড়তে পারি না,” তিনি বলেন। “আমরা এখানে আমাদের ফিলিস্তিনি বন্ধুদের জন্য একটি কণ্ঠস্বর হওয়ার চেষ্টা করছি।”

তিনি বলেন, জাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতি ফ্লোটিলার বিরুদ্ধে পরিচালিত সহিংসতা ও বৈরী আচরণের বিষয়টিই স্পষ্ট করে তোলে।

“আমরাও সব ধরনের প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনড়,” বলেন ওর্দূ।

সূত্র: ডেইলি সাবাহ


এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন