আন্তর্জাতিক কোরআন পার্লামেন্টের ২৫তম অধিবেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করলেন অধ্যাপক বিলাল সামবুর

পড়তে ১ মিনিট

প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক বিলাল সামবুর

আন্তর্জাতিক কোরআন পার্লামেন্টের (আইকিউপি) ২৫তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তুরস্কের আঙ্কারা ইলদিরিম বেয়াজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক বিলাল সামবুর।

অধিবেশনের আলোচ্য বিষয় ছিল, ‘কোরআনের ব্যাখ্যার উৎস হিসেবে সংস্কৃতি: কোরআন অনুধাবনের সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান হিসেবে সাংস্কৃতিক ধর্মতত্ত্ব’।

অধিবেশনে অধ্যাপক বিলাল সামবুর কোরআনের মূল পাঠ এবং এর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্যাখ্যার আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট যেকোনো ব্যাখ্যামূলক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার একটি মৌলিক উৎস। কারণ, প্রতিটি ব্যাখ্যাই নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে মানুষের জীবন-অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয়।

তিনি বলেন, মানুষ উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ধারণা, সামষ্টিক স্মৃতি, শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা, সামাজিক সম্পর্ক, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে কোরআনের কাছে পৌঁছায়। এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশ কোরআন ব্যাখ্যার সম্ভাবনা ও পরিসরকে প্রভাবিত করে। রাজনৈতিক কিংবা গণমাধ্যমনির্ভর কর্তৃত্বের মতো সামাজিক পরিস্থিতিও এসব ব্যাখ্যাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

অধ্যাপক বিলাল সামবুরের মতে, কোরআনকে যথাযথভাবে বুঝতে হলে শুধু ওহির মূল পাঠ ও ভাষাগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করলেই চলবে না; বরং যেসব সাংস্কৃতিক জগতের মধ্য দিয়ে কোরআনের ব্যাখ্যা করা হয়, সেগুলোর সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর আন্তর্জাতিক কোরআন পার্লামেন্টের (আইকিউপি) সচিব ড. মোহাম্মদ হাসান আহমাদি আলোচিত বিষয়গুলোর ওপর বক্তব্য দেন এবং দুটি প্রশ্ন উত্থাপন করেন।

প্রথম প্রশ্নে তিনি জানতে চান, এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে নাসর হামিদ আবু জায়েদের মতো চিন্তাবিদদের মতবাদের পার্থক্য কোথায়, যাঁরা কোরআনকে একটি ‘সাংস্কৃতিক উৎপাদন’ হিসেবে বিবেচনা করেন? দ্বিতীয় প্রশ্নে তিনি জানতে চান, এই ব্যাখ্যাপদ্ধতিকে কিছু সমালোচক ‘তাফসির বি আল-রায়’ বা ব্যক্তিগত মতামতনির্ভর ও খেয়ালখুশিমতো ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন কি না।

জবাবে অধ্যাপক বিলাল সামবুর বলেন, ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কঠোরভাবে শুধু ‘পাঠ থেকে পাঠ’ বা অন্তঃপাঠভিত্তিক পদ্ধতির ওপর নির্ভর করার প্রবণতা সমস্যাজনক। কোরআনের অর্থের সামগ্রিক ও পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধি অর্জনের জন্য সংস্কৃতিসহ সব ধরনের প্রাসঙ্গিক নির্দেশক ও উপাদান বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য।

উল্লেখ্য, গত এক বছর ধরে ‘আরজিকিউ’ শিরোনামে বিশ্বব্যাপী কোরআন গবেষণা পর্যালোচনাবিষয়ক ধারাবাহিক অধিবেশনগুলো ‘ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল পার্লামেন্ট অব দ্য হলি কোরআন’ (আইকিউপি)-এর মূল কার্যক্রম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতি মাসে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে এসব অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কোরআনবিষয়ক আলোচনা ও গবেষণায় আগ্রহী ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। অধিবেশনগুলোতে অংশগ্রহণকারীদের বৈধ সনদও প্রদান করা হয়।

এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন