২০০৫ সালে জলবায়ু ঝুঁকিতে ১৭১ মিলিয়নেরও বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত : ইউনিসেফ
লেখক:
বিশ্বব্যাপী ১০ জনের মধ্যে ১ জন—জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে শিক্ষাগ্রহণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে | ছবি : সংগৃহীত
ইউনিসেফ প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক বয়সসীমার ১৭১ মিলিয়নেরও বেশি শিক্ষার্থী—অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী ১০ জনের মধ্যে ১ জন—জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে শিক্ষাগ্রহণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, “লাখো শিশুর জন্য জলবায়ু ঝুঁকি কেবল পাঠদানই ব্যাহত করে না; এগুলো স্কুল ধ্বংস করে, পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের, বিশেষ করে মেয়েদের, চিরতরে শ্রেণিকক্ষ থেকে ছিটকে ফেলে।”
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত বছর বিদ্যালয় বন্ধ বা শিক্ষা বিঘ্নিত হওয়ার প্রধান কারণ ছিল ঝড়। এতে বিশ্বজুড়ে ১০৯ মিলিয়ন শিক্ষার্থী প্রভাবিত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ৭০ মিলিয়ন শিক্ষার্থী। আর দাবদাহের কারণে প্রায় ৫০ মিলিয়ন শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি পাকিস্তানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটিতে গত বছরের আগস্টে তীব্র বর্ষণজনিত বন্যার কারণে ২ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এটি ২০২৫ সালে রেকর্ডকৃত শিক্ষা বিঘ্নতার অন্যতম বৃহৎ ঘটনা।
প্রতিবেদনে মিসরের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে এপ্রিলে একটি শক্তিশালী ‘খামসিন’ ধূলিঝড়ের কারণে এক দিনের জন্য দেশব্যাপী ক্লাস স্থগিত করতে হয়েছিল। এতে ২ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী প্রভাবিত হয়।
তথ্য অনুযায়ী, ৪০টি দেশ বছরজুড়ে একাধিকবার জলবায়ু-সম্পর্কিত স্কুল বন্ধের মুখোমুখি হয়েছে। মাদাগাস্কার এর একটি উদাহরণ। দেশটি খরা, ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মুখোমুখি হয় এবং এসব দুর্যোগে বছরটিতে ২ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্পেনে মার্চ মাসে ভ্যালেন্সিয়ান অঞ্চলের ৫ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী ঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর সেপ্টেম্বরে পোস্ট-ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ‘গ্যাব্রিয়েল’ আঘাত হানে। দেশটির অন্যান্য অঞ্চলের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মে ও জুন মাসে চরম দাবদাহ শ্রেণি কার্যক্রম ব্যাহত করে। এছাড়া অক্টোবরে ‘স্টর্ম অ্যালিস’ শিক্ষাব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে।
জলবায়ু দুর্যোগের মারাত্মক প্রভাব থেকে শিক্ষাকে রক্ষা করতে ইউনিসেফ সরকার ও অংশীদারদের প্রতি কয়েকটি পদক্ষেপ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।
১. জরুরি পরিস্থিতিতেও পড়ালেখা চালু রাখতে শিক্ষাব্যবস্থার জলবায়ু-সহনশীলতা জোরদার করা।
২. শিক্ষা সহনশীলতার জন্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বৃদ্ধি করা।
৩. শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের রক্ষায় জলবায়ু-সহনশীল শিক্ষা পরিকাঠামো বা অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করা।
৪. সহনশীলতা তৈরি এবং জলবায়ু পদক্ষেপে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য শিশু ও তরুণদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতায় সজ্জিত করা।
৫. দুর্যোগের পূর্বাভাস পেতে, তা মোকাবিলা করতে এবং ক্ষতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে জলবায়ু ও শিক্ষা বিষয়ক তথ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
ক্যাথরিন রাসেল বলেন, “জলবায়ু ঝুঁকি শিশুদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুদের জন্য শিক্ষা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমাদের এমন স্কুল ও শিক্ষাব্যবস্থায় বিনিয়োগ করতে হবে যা জলবায়ুজনিত আঘাত সহ্য করতে সক্ষম।”



