ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারত্বের অবসান ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার তাগিদ ওআইসির
লেখক:
ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠিত এক যৌথ সেমিনার | ওআইসি
ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থাকে একমাত্র কার্যকর পথ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত নীতিমালার ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসরাইলি দখলদারত্ব ও অবৈধ বসতি স্থাপন বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে হবে।
গত ৫ নভেম্বর ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠিত এক যৌথ সেমিনারে এ আহ্বান জানায় ওআইসি। সংস্থাটির পাশাপাশি আরব লীগ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা কাঠামোর উদ্যোগে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের সদর দপ্তরে আয়োজিত সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ফিলিস্তিন প্রশ্নে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান’। এতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক প্রতিনিধি, আদ্দিস আবাবায় নিযুক্ত কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
দখলদারত্ব ও অবৈধ বসতি বন্ধের দাবি
সেমিনারে ওআইসির মহাসচিবালয়ের পক্ষে বক্তব্য দেন সংস্থাটির ফিলিস্তিনবিষয়ক বিভাগের পরিচালক রাষ্ট্রদূত আসেম হানাফি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও বৈধতার ভিত্তিতে ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থাই একমাত্র পথ। এ লক্ষ্য অর্জনে ইসরাইলি দখলদারত্বের অবসান এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি নির্মাণ বন্ধ করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকার। এ অধিকার বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমের অখণ্ডতা রক্ষার তাগিদ
বক্তব্যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অখণ্ডতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা ও পূর্ব জেরুজালেমকে বিচ্ছিন্ন না করে একটি ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ওআইসি।

এ ছাড়া ফিলিস্তিনি সরকার ও জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়। ফিলিস্তিনি জনগণকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে সংস্থাটি। একই সঙ্গে জেরুজালেম ও পবিত্র আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনগত মর্যাদা পরিবর্তনের উদ্যোগও কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
ফিলিস্তিনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বৃদ্ধিতে সন্তোষ
সেমিনারে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করে ওআইসি। সংস্থাটির মতে, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন বৃদ্ধি সংকটের ন্যায়সংগত সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে কেবল স্বীকৃতি দেওয়াই যথেষ্ট নয়; ইসরাইলি দখলদারত্বের অবসান এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
নিউইয়র্ক ঘোষণার বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ
দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে গঠিত আন্তর্জাতিক জোটের কার্যক্রমে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানায় ওআইসি। একই সঙ্গে এ সমাধান বাস্তবায়নে নিউইয়র্ক ঘোষণার কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে সংস্থাটি।
ওআইসির মতে, ফিলিস্তিন সংকটের ন্যায়সংগত সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ও সম্মিলিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে। এর মাধ্যমে ইসরাইলি দখলদারত্বের অবসান ঘটিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথ তৈরি করা সম্ভব।
সেমিনারে ওআইসি, আরব লীগ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে। ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার ও স্বীকৃত আন্তর্জাতিক নীতির ভিত্তিতে অভিন্ন অবস্থান গড়ে তোলার পাশাপাশি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে সম্মিলিত উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন অংশগ্রহণকারীরা।


