সীমান্ত শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে তুরস্ক-ইরাক, ৩০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা
লেখক:
আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ‘তুরস্ক-ইরাক বিজনেস গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন তুর্কি ও ইরাকি প্রতিনিধিদল। (ছবি: আনাদোলু এজেন্সি)
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৩০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সীমান্ত শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে কাজ করছে তুরস্ক ও ইরাক। এ লক্ষ্যে দুই দেশের প্রধান সীমান্ত ক্রসিংয়ে কাস্টমস প্রক্রিয়া আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ওমের বোলাত।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত তুরস্ক-ইরাক ব্যবসায়িক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ঠিকাদারি, পরিবহন, প্রতিরক্ষা, পর্যটন ও সেবা খাতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে।
বোলাত জানান, বর্তমানে তুরস্ক ও ইরাকের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার। কোভিড-১৯ মহামারির পর এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের সময়ে এ বাণিজ্য ২৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তিনি বলেন, ইরাক বর্তমানে তুরস্কের পঞ্চম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং মধ্যমেয়াদে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৩০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে উভয় দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও জানান, তুর্কি ঠিকাদাররা ইরাকে ৪০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১ হাজার ১৫৭টি প্রকল্প সম্পন্ন করেছেন, যা ইরাককে তুরস্কের তৃতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক ঠিকাদারি বাজারে পরিণত করেছে।
বোলাত ইরাক সরকারের ‘অটোমেটেড সিস্টেম ফর কাস্টমস ডাটা’ (ASYCUDA)-এর সঙ্গে ইব্রাহিম খলিল সীমান্ত ক্রসিংকে যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, এ ব্যবস্থা চালু হলে সীমান্তে অনিশ্চয়তা কমবে, কাস্টমস কার্যক্রম দ্রুত হবে এবং দুই দেশের বাণিজ্য ৩০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, টিআইআর কনভেনশন বাস্তবায়নে ইরাককে সহযোগিতা করতে তুরস্ক প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং দ্বৈত কর পরিহার সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলো কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
তুর্কি বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সাম্প্রতিক সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বাণিজ্য, পরিবহন এবং জ্বালানি করিডোর আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। এ কারণে কিরকুক-সিহান তেল পাইপলাইন পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা, বসরা থেকে তুরস্কের সিহান টার্মিনাল পর্যন্ত নতুন পাইপলাইন নির্মাণ এবং ‘ডেভেলপমেন্ট রোড’ প্রকল্পের অগ্রগতিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
পরিকল্পিত এ করিডোরের মাধ্যমে ইরাকের গ্র্যান্ড ফাও বন্দর তুরস্ক হয়ে ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। বোলাতের ভাষ্য, এ প্রকল্প নতুন লজিস্টিক কেন্দ্র ও শিল্পনগর গড়ে তোলার মাধ্যমে তুরস্ক-ইরাকের বিনিয়োগ ও ঠিকাদারি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
তিনি আরও জানান, গত ১৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া তুরস্ক-সৌদি আরব ট্রানজিট ভিসা ব্যবস্থা ইরাক হয়ে সৌদি আরব, কুয়েত এবং সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে চলতি বছরেই ‘তুরস্ক-ইরাক যৌথ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কমিটি’র পরবর্তী বৈঠক আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় তুরস্কের বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বোর্ডের সভাপতি নাইল অলপাক ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার ও কুর্দি আঞ্চলিক সরকারের পৃথক শুল্ক প্রক্রিয়ার বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্য একাধিকবার প্রবেশের সুযোগসংবলিত বাণিজ্য ভিসা চালু, ই-ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে বাণিজ্যিক লেনদেন সহজ করারও আহ্বান জানান তিনি।


