ভারতে মুসলিম ধর্মীয় স্থান ভাঙচুরের অভিযোগ : আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্বেগ
লেখক:
উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে গত ২ জুন আজগাইব শহীদ মসজিদ ও সংলগ্ন মাজার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় । ছবি : সংগৃহীত
ভারতে একাধিক রাজ্যে ধর্মীয় স্থাপনা, বিশেষ করে মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অধিকারবিষয়ক সংস্থা ‘জাস্টিস ফর অল’ (Justice For All) এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
জানা গেছে, গত ২ জুন উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে অবস্থিত ২০০ বছরের পুরোনো ‘আজগাইব শহীদ মসজিদ’ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া একই শহরের প্রায় ১,০০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ‘মসজিদ গঞ্জ শহীদাহ’-ও উচ্ছেদের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে, যা অঞ্চলটির দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অংশ।
অভিযোগ উঠেছে, গত ৪৫ দিনের মধ্যে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলো—যেমন দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, রাজস্থান ও হরিয়ানায় অন্তত ২৩টি মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহ ধ্বংস করা হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ
এসব উচ্ছেদ অভিযানে প্রশাসনিক একটি নির্দিষ্ট ধরণ ফুটে উঠেছে, যেখানে স্থাপনাগুলোকে ‘অবৈধ নির্মাণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা ও সমালোচকদের দাবি : ১. কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়াই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ২. কোনো ধরণের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ৩. মুসলিম ধর্মীয় স্থানগুলোকে বেছে বেছে নিশানা করা হলেও, পাসেই অনুমোদন ছাড়া নির্মিত অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মার্কিন সংস্থার ‘জাস্টিস ফর অল’-এর বিবৃতি ও অভিযোগ
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে তিনটি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। এটি দাবি করে যে, এই ধারা ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আইনের চোখে সমতার নীতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। সংস্থাটি নির্দিষ্টভাবে সাম্ভালের ‘মসজিদ মুস্তফা কাদরী’, বারাণসীর ‘শহীদ আজগাইব মসজিদ’ এবং জয়পুরের ‘নূরানী মসজিদ’ ভেঙে ফেলার বিষয়টি তুলে ধরেছে।
‘জাস্টিস ফর অল’ অভিযোগ করেছে যে, ধর্মীয় স্থাপনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করছে। সংস্থাটি ভারতের বুদ্ধিজীবী ও নাগরিক সমাজকে এক হয়ে এই তথাকথিত ‘ঘৃণার রাজনীতি’র বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি যুক্তি দেয় যে, দেশের সংবিধানে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার অবশ্যই রক্ষা করতে হবে এবং সতর্ক করে দেয় যে, এসব ধ্বংসযজ্ঞের সংখ্যা বৃদ্ধি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতাবোধকে আরও গভীর করতে পারে।
ইতোমধ্যে ভারতে চলমান এই অবৈধ দখলবিরোধী অভিযান নিয়ে ব্যাপক সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
যদিও সরকারি কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছে যে, সমস্ত উচ্ছেদ অভিযান আইনি ও প্রশাসনিক নিয়মকানুন মেনেই পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে নাগরিক অধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকদের মতে, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ, স্বচ্ছতা ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা না করা গেলে বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।


