হিজাব নিষিদ্ধের প্রস্তাব ঘিরে ফ্রান্সে বিতর্ক, সংহতির জোয়ার

পড়তে ১ মিনিট

‘সবার জন্য হিজাব’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রচারণা | ছবি : সংগৃহীত



ফ্রান্সে প্রকাশ্যে হিজাব পরা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগের কথা সামনে আসার পর এর প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংহতির প্রচারণা শুরু হয়েছে। মুসলিম ও অমুসলিম অনেক নারী মাথায় স্কার্ফ বা হিজাব পরা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘#FoulardPourTous’ বা ‘সবার জন্য হিজাব’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রচারণা। আয়োজকদের দাবি, হিজাব পরার অধিকার ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকারের অংশ।

যেভাবে বিতর্কের সূত্রপাত

গত ৩০ আগস্ট বিএফএম টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যাশনাল র‍্যালির (আরএন) সংসদ সদস্য জাঁ-ফিলিপ তাঙ্গি বলেন, ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মারিন ল্য পেন জয়ী হলে জনসমক্ষে ইসলামিক হেডস্কার্ফ পরার ক্ষেত্রে জরিমানা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

পরে মারিন ল্য পেনও এ অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানান। তার ভাষ্য, ‘ইসলামবাদ’ মোকাবিলার অংশ হিসেবে প্রকাশ্যে হিজাব পরার ওপর আইনি বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

ন্যাশনাল র‍্যালির পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, হিজাব শুধু পোশাকের বিষয় নয়; এর সঙ্গে একটি আদর্শিক অবস্থানও যুক্ত রয়েছে, যা তাদের মতে ফরাসি প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দলটির নেতারা বিভিন্ন দেশে নারীদের ওপর জোরপূর্বক হিজাব চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও তাদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন।

তবে এ যুক্তির বিরোধিতা করেছেন অধিকারকর্মী ও সমালোচকরা। তাদের মতে, কোনো দেশে নারীদের ওপর জোর করে পোশাক চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনা এবং কোনো নারীর স্বেচ্ছায় ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে হিজাব পরাকে এক করে দেখা যায় না। তাদের দাবি, পোশাক নির্বাচনের স্বাধীনতা ব্যক্তিগত অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ

হিজাব নিষিদ্ধের প্রস্তাব সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মুসলিম নারীদের পাশাপাশি অমুসলিম অনেক ফরাসি নারীও মাথায় স্কার্ফ বা হিজাব পরা ছবি প্রকাশ করে সংহতি জানাচ্ছেন।

প্রতিবাদকারীদের কেউ কেউ বলছেন, বিষয়টি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের আইন পাস হলে নিয়মিত হিজাব পরে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ এবং নাগরিক অবাধ্যতার কর্মসূচি নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন অনেকে।

ইসলামী দৃষ্টিতে হিজাব

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে হিজাবকে মুসলিম নারীর ধর্মীয় অনুশাসনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনার ভিত্তিতে ইসলামী ফিকহে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারীর পর্দা ও শালীন পোশাকের বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।

এ কারণে মুসলিমদের কাছে হিজাব শুধু সাংস্কৃতিক বা আঞ্চলিক পোশাক নয়; বরং এটি ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত ধর্মচর্চার অংশ। ফলে হিজাব নিষিদ্ধের যেকোনো উদ্যোগকে মুসলিম অধিকারকর্মীরা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

ফ্রান্সে হিজাব নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। দেশটির ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি, প্রকাশ্যে ধর্মীয় প্রতীক এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলে আসছে। নতুন প্রস্তাব সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।

এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন