সন্ধিক্ষণে উপসাগরীয় অঞ্চল
লেখক:
সন্ধিক্ষণে উপসাগরীয় অঞ্চল : সৌদি আরব এই অস্থির পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে
একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব এখন আর আগের মতো নিরাপদ নেই। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে। এসব সংঘাতের অনেক ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে পানি ও খাদ্য সংকট, বৈরী আবহাওয়া এবং ক্রমবর্ধমান শরণার্থী সমস্যাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই বাস্তবতার মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চল গত কয়েক দশকের অন্যতম অস্থির ও ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার করছে। ইরানকে ঘিরে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের প্রভাব এখন আশপাশের উপসাগরীয় দেশগুলোতেও পড়ছে। একই সময়ে ইয়েমেনে সক্রিয় হুতিদের সম্ভাব্য নতুন তৎপরতা আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করতে পারে, যা সৌদি আরবের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগের।
সৌদি আরব এই অস্থির পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দেশটির দক্ষিণ সীমান্তে হুতিদের উপস্থিতি ক্রমেই বড় নিরাপত্তা উদ্বেগ হয়ে উঠছে। এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা সৌদি আরবের বড় শহর, জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
সৌদি আরবের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো, লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো হুতিদেরও ইরান দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন দিয়ে আসছে। ফলে হুতিদের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতা ইরানের প্রভাবকে সৌদি সীমান্তের আরও কাছে নিয়ে আসতে পারে—এমন আশঙ্কা রিয়াদের রয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর অঞ্চলে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা তেহরানের আঞ্চলিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা। প্রশ্ন উঠছে, সৌদি আরবের মতো মিত্রদের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় ওয়াশিংটন আসলে কতটা প্রস্তুত।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে তিনি রিয়াদকে কোনো সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধানের সঙ্গে পৃথক আলোচনাতেও তিনি সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো অঙ্গীকার করেননি।
বরং মার্কিন কর্মকর্তারা ওমানে হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে মার্কিন ও ইসরাইলি জাহাজে হামলা না চালানোর বিষয়ে হুতিদের কাছ থেকে আশ্বাস নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবের সামনে নিরাপত্তার একটি কঠিন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—নিজের ভূখণ্ড ও স্বার্থ রক্ষার বড় দায়িত্ব তাকে নিজেকেই নিতে হতে পারে।
এ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রকৃতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। মার্কিন নিরাপত্তা কাঠামো কি সত্যিই পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য, নাকি এর কেন্দ্রে রয়েছে মূলত ইসরাইলের নিরাপত্তা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে তেল, পেট্রোডলার ও নিরাপত্তাকে ঘিরে কয়েক দশকের ক্ষমতার রাজনীতির দিকে তাকাতে হবে। তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব।
সৌদি আরবের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এমন কোনো ব্যবস্থা, যেখানে মার্কিন ও ইসরাইলি জাহাজ নিরাপদ থাকবে, কিন্তু সৌদি জাহাজ, বন্দর ও অবকাঠামো হামলার ঝুঁকিতে থাকবে—তাকে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলা কঠিন। বরং এতে সংকটের বোঝা ওয়াশিংটন থেকে রিয়াদের দিকে সরে যাওয়ার আশঙ্কাই বাড়ে।
বাছাইকৃত নিরাপত্তা বলয়
কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি অলিখিত নিরাপত্তা সমঝোতা কার্যকর ছিল। কিন্তু সেই ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়।
২০১৯ সালে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ এবং গোয়েন্দা সহযোগিতা থাকা সত্ত্বেও সেই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রশ্নকে আরও সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব বাহিনী, আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন এবং ইসরাইল সরাসরি হুমকির মুখে পড়লে শক্তভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। কিন্তু সৌদি ভূখণ্ড বা দেশটির অর্থনৈতিক অবকাঠামো আক্রান্ত হলে একই মাত্রার প্রতিক্রিয়া হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময়ও উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে। কারণ তারা আশঙ্কা করেছিল, সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও ভৌগোলিক নৈকট্য এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটির কারণে তারা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
তেল স্থাপনা, পানি শোধনাগার, বিমানবন্দর, বন্দর ও আর্থিক কেন্দ্রগুলোও তখন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। ফলে যে যুদ্ধ তারা চায়নি, তার অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত মূল্য উপসাগরীয় দেশগুলোকেই বহন করতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় উপসাগরীয় সরকারগুলোকে একদিকে ওয়াশিংটনের ওপর তাদের নিরাপত্তা নির্ভরতা নতুন করে মূল্যায়ন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে হচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে ব্যাপক সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হওয়ার পর তার সরাসরি একটি পরিণতি হিসেবে সৌদি আরবের ওপর হুতিদের চাপ বাড়তে পারে। কিন্তু এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়াশিংটন কতটা এগিয়ে আসবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ইরান ও হুতি গোষ্ঠী
ইরানের আঞ্চলিক কৌশলে দীর্ঘদিন ধরেই মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব গোষ্ঠীর মাধ্যমে তেহরান সরাসরি প্রতিটি সংঘাতের দায় না নিয়েও প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এই নেটওয়ার্কের মধ্যে হুতিরা এখন অন্যতম সামরিকভাবে সক্ষম শক্তি। তাদের হাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে, রয়েছে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। ইয়েমেনের একটি বড় অংশেও তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হুতিদের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বাব আল-মানদাব শুধু একটি সামুদ্রিক প্রণালি নয়; এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে প্রতিদিন প্রায় ৭৪ লাখ ব্যারেল পেট্রোলিয়াম পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে।
সৌদি আরব উপসাগর ও লোহিত সাগর—দুই দিকের সামুদ্রিক যোগাযোগের ওপরই নির্ভরশীল। একদিকে ইরানের কারণে হরমুজ প্রণালি হুমকির মুখে পড়লে এবং অন্যদিকে বাব আল-মানদাব হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বা হামলার ঝুঁকিতে থাকলে সৌদি আরব একই সঙ্গে পূর্ব ও পশ্চিম—দুই রপ্তানি পথেই চাপের মুখে পড়তে পারে।
ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে সাম্প্রতিক হামলাও দেখিয়েছে, কীভাবে একটি সামরিক সংঘাত দ্রুত অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হতে পারে। রপ্তানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সৌদি আরবকে উপসাগরীয় টার্মিনাল দিয়ে সরবরাহ বাড়াতে হয়েছে এবং বিকল্প পথের ব্যবস্থাও করতে হয়েছে।
নির্বাচনী রাজনীতির প্রভাব
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বোঝার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ। ইসরাইলের অক্টোবরের নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রের এক মাস পরের মধ্যবর্তী নির্বাচন—দুই দেশেই রাজনৈতিক চাপ রয়েছে।
এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেশ দুটির নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—উভয়ের সামনেই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নির্বাচনের আগে জনসমর্থন ধরে রাখার বিষয়টি তাদের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ট্রাম্পের জন্য ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক ফ্রন্ট খোলা এড়িয়ে যাওয়ার একটি রাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে। তিনি মার্কিন ভোটারদের কাছে এমন একটি অবস্থান তুলে ধরতে পারেন যে, নতুন কোনো মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়েও মার্কিন জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
কিন্তু ওয়াশিংটনের জন্য যে নীতি রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হতে পারে, তা রিয়াদের জন্য একইভাবে নিরাপদ নাও হতে পারে।
এতে একটি অস্বাভাবিক ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে। ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে প্রভাবিত করতে পারে, আবার যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হিসাব আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তৃত পরিণতিতে সরাসরি জড়ানো থেকে ওয়াশিংটনকে বিরত রাখতে পারে।
ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছে, যেখানে অন্যদের শুরু করা সংঘাতের ঝুঁকি তাদের বহন করতে হচ্ছে, আবার সংকটের সময় বাইরের সহায়তা পাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত নয়।
সৌদি আরবের করণীয়
সৌদি আরবের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। দেশটিকে এখন আগের নিরাপত্তা-নির্ভরতার অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবতা মেনে নিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে আত্মনির্ভরশীল প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং বাইরের সহায়তার ওপর কম নির্ভরশীল একটি নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
তবে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য, সামরিক প্রযুক্তি, রসদ সরবরাহ এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প দ্রুত তৈরি করা কঠিন। কিন্তু সৌদি নিরাপত্তা কেবল কোনো একটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ব্যক্তিগত বোঝাপড়া বা রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করে থাকা নিরাপদ নয়।
রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তাই নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে আরও স্পষ্ট আলোচনা প্রয়োজন। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নৌপথে হুমকি, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং বিদেশি সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার মতো পরিস্থিতিতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হবে—এসব বিষয়ে পরিষ্কার কাঠামো থাকা জরুরি।
একই সঙ্গে সৌদি আরবের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বহুমুখী আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, ড্রোন প্রতিরোধ, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, সাইবার নিরাপত্তা এবং দেশীয়ভাবে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
জিসিসির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও আরও শক্তিশালী করা যেতে পারে। পাশাপাশি পাকিস্তান, তুরস্ক, ফ্রান্স, ব্রিটেন, মিশর ও চীনের মতো দেশের সঙ্গে নির্বাচিত ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এর উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়; বরং নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে আরও বৈচিত্র্যময় করা।
ইয়েমেনের ক্ষেত্রেও সৌদি আরবের একটি সমন্বিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কৌশল প্রয়োজন। শুধু বিমান হামলা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দিতে পারে না। আবার দুর্বল অবস্থান থেকে আলোচনা করলে হুতিদের সামরিক চাপ আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
যেকোনো ভবিষ্যৎ সমঝোতায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের ওপর কার্যকর বিধিনিষেধ, সৌদি ভূখণ্ড ও নৌপথের নিরাপত্তা এবং ইয়েমেনের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠীগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য একটি রাজনৈতিক কাঠামো থাকা প্রয়োজন।
ইরানের সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো, জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষিত রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বা ইসরাইল-ইরান উত্তেজনার প্রভাব থেকে সৌদি-ইরান সম্পর্ককে যতটা সম্ভব আলাদা রাখার জন্য রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যে সুস্পষ্ট যোগাযোগব্যবস্থা দরকার।
সব মিলিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল এখন অত্যন্ত জটিল এক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মুখোমুখি। ওয়াশিংটনকে ক্রমেই এমন একটি অবস্থানে দেখা যাচ্ছে, যেখানে তারা নিজেদের বাহিনী, নিজেদের জাহাজ এবং ইসরাইলের নিরাপত্তা রক্ষায় বেশি সক্রিয়; অন্যদিকে উপসাগরীয় মিত্রদের নিজেদের নিরাপত্তার বড় অংশ নিজেরাই নিশ্চিত করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই বাস্তবতা সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে একটি নতুন প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে—দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা নির্ভরতার কাঠামো কতটা কার্যকর এবং ভবিষ্যতের জন্য তাদের নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কতটা স্বাধীন ও বহুমুখী করা দরকার।



