বৈশ্বিক হুমকি : ইসলাম এবং উম্মাহর করণীয়
লেখক:
বৈশ্বিক হুমকি : ইসলাম এবং উম্মাহর করণীয়
আধুনিক বিশ্ব বর্তমানে এক অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। মানবজাতি আজ এমন সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে যা কেবল রাজনৈতিক মতভেদ বা অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দুর্নীতি, লোভ, অবিচার, আসক্তি এবং সামাজিক অবক্ষয় আজ বিশ্বব্যাপী নিয়মে পরিণত হয়েছে। পার্থিব ক্ষমতার অন্ধ মোহে পড়ে বিবেকের চর্চা আজ উপেক্ষিত, যার ফলে পৃথিবী আজ চরম আধ্যাত্মিক সঙ্কটে নিমজ্জিত। তা সত্ত্বেও, এসব প্রকৃত হুমকির মোকাবিলা করার পরিবর্তে বিশ্বজুড়ে আলোচনার একটি বড় অংশ ইসলামকেই প্রধান বিপদ হিসেবে চিত্রায়িত করে। ‘ইসলাম একটি বৈশ্বিক হুমকি’Ñএই দাবিটি বাস্তবতার সঠিক প্রতিফলন নয়; বরং এটি রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আধিপত্য বজায় রাখার আকাঙ্ক্ষা থেকে উদ্ভূত একটি ভীতি। সমসাময়িক সমাজের চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য ইসলামই হলো চূড়ান্ত এবং সামগ্রিক নৈতিক সমাধান।
ইসলামী পুনর্জাগরণের রাজনৈতিকীকরণ
স্নায়ুযুদ্ধ সমাপ্তির পর কমিউনিজমের পতন পশ্চিমা বিশ্বকে একটি নতুন আদর্শিক প্রতিপক্ষ খুঁজে বের করতে বাধ্য করে। ইসলাম দ্রুতই সেই সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়। রাজনৈতিক নেতা এবং সংবাদমাধ্যমগুলো ইসলামী পুনর্জাগরণ আন্দোলনগুলোকে উগ্রবাদী, আক্রমণাত্মক বা আধুনিকতা-বিরোধী হিসেবে চিত্রায়িত করতে শুরু করে। এই পরিবর্তনটি ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত; এর লক্ষ্য ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে সামরিক আগ্রাসন, অর্থনৈতিক শোষণ এবং সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারকে যুক্তিসঙ্গত করে তোলা।
‘ওয়ার অন টেরর’ এখন আরো ব্যাপক এক সভ্যতাগত লক্ষ্য হাসিলের আবরণে পরিণত হয়েছে: আর তা হলো ইসলামকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা এবং বিশ্বব্যাপী এর নৈতিক কর্তৃত্বকে খর্ব করা। ‘বৈশ্বিক ব্যবস্থা’র এই আলোচনার মূলে রয়েছে আধিপত্য বজায় রাখার এক প্রচেষ্টাÑযা কোনো নৈতিক কর্তৃত্বের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং বস্তুগত আধিপত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। যেকোনো ব্যবস্থা যা এই সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করে, বিশেষ করে যা ঐশ্বরিক ন্যায়বিচার ও দায়বদ্ধতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, তাকেই সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইসলামের বিরুদ্ধে আদর্শিক সঙ্ঘাত
বর্তমানে ইসলামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়ংকর যুদ্ধটি অস্ত্রের মাধ্যমে নয়, বরং আদর্শের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ইসলামকে আধুনিকতা বা গণতন্ত্রের পরিপন্থী হিসেবে চিত্রায়িত করার এক নিরন্তর প্রচেষ্টা চলছে। এই প্রচেষ্টার লক্ষ্য হলো ইসলামকে কেবল ব্যক্তিগত উপাসনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এর প্রভাবকে রোধ করা। পশ্চিমা সেকুলারবাদ (ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ) জনজীবন থেকে ধর্মকে পৃথক রাখার পক্ষে মত দেয় এবং দাবি করে যে বিশ্বাস কেবল একটি ব্যক্তিগত বিষয়। ইসলাম এই বিভাজনকে প্রত্যাখ্যান করে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ নৈতিক রূপরেখা প্রস্তাব করে, যা আধ্যাত্মিক এবং পার্থিবÑউভয় জগতকেই পরিব্যাপ্ত করে; যেখানে শাসনব্যবস্থা, ন্যায়বিচার এবং জ্ঞানতত্ত্ব ঐশ্বরিক নির্দেশনার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও সীমালঙ্ঘন নিষিদ্ধ করেন’ (কুরআন ১৬:৯০)।
ফলশ্রুতিতে, বৈশ্বিক শক্তিগুলো ইসলামের মর্মবাণীকে বিকৃত বা অবমূল্যায়ন করার চেষ্টা করে। তারা এমন সব সাংস্কৃতিক নীতিমালাকে সমর্থন করে যা ইসলামী নৈতিকতার সাথে সাংঘর্ষিক: যেমন বস্তুবাদ, নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদ এবং উগ্র ব্যক্তিবাদ। তারা এমন সব শাসনব্যবস্থাকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয় যারা প্রকৃত ইসলামী আন্দোলনগুলোকে স্তব্ধ করে দেয়, অথচ একনিষ্ঠ সংস্কারকদের ‘উগ্রপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করে। এই চর্চা মুসলিমদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক আত্মবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
পাশ্চাত্যের দ্বিমুখী নীতি
পশ্চিমা রাজনীতির নৈতিক অসঙ্গতিগুলো অত্যন্ত প্রকট। যেসব পক্ষ গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলে, তারাই প্রায়শই দমনমূলক ও স্বৈরাচারী সরকারকে সমর্থন দেয় যখন তা তাদের কৌশলগত স্বার্থের অনুকূলে থাকে। যখন বৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো ইসলামী দল ক্ষমতায় আসে, তারা সেই বিজয়কে প্রত্যাখ্যান করে, তাদের নেতাদের কারারুদ্ধ করে এবং তাদের প্রশাসনকে জবরদখল করে। একই সাথে, পশ্চিমা সরকার এবং সংস্থাগুলো ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে মিয়ানমার ও চীন পর্যন্ত মুসলিমদের ওপর চালানো নৃশংসতাকে প্রায়শই উপেক্ষা করে। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মুসলিমদের প্রতিরোধকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, অথচ রাষ্ট্রের বর্বরতাকে ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ হিসেবে যুক্তিসঙ্গত করার চেষ্টা করা হয়। এই দ্বিমুখী মানদণ্ড বৈশ্বিক ব্যবস্থার নৈতিক শূন্যতাকে উন্মোচিত করে দেয়। কুরআন মুমিনদের নির্দেশ দেয়: ‘হে মুমিনগণ, তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহর ওয়াস্তে সাক্ষী হও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের, পিতা-মাতার কিংবা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে যায়’ (সূরা নিসা, ৪:১৩৫)। ইসলামের এই নৈতিক স্পষ্টতা নৈতিকতাহীন ক্ষমতার দ্বারা শাসিত বর্তমান বিশ্বের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
নৈতিক অবক্ষয়
মানবজাতির জন্য বর্তমান অস্তিত্ব রক্ষার হুমকি ইসলাম নয়, বরং নৈতিক অবক্ষয়। যে দৃষ্টিভঙ্গি আসমানি বা ঐশ্বরিক নির্দেশনাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং কেবল বস্তুগত সাফল্যকে পূজা করে, তা কখনোই ন্যায়বিচার বা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। সেকুলার বস্তুবাদ এমন এক সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে যা কেবল ভোগবাদ, শোষণ এবং আত্মকেন্দ্রিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দ্বারা চিহ্নিত। অনেক পশ্চিমা বুদ্ধিজীবীও এই বিপদটি স্বীকার করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যেÑবিশ্বাস, নৈতিকতা এবং আধ্যাত্মিক শৃঙ্খলা ছাড়া মানবজাতি আজ আত্মবিনাশের ঝুঁকির মুখে। পারিবারিক সম্পর্কের সংকট, পরিবেশের বিপর্যয়, মাদকাসক্তি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতিÑএসবই এমন এক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেয় যা তার অন্তর্নিহিত দিশা হারিয়ে ফেলেছে। ইসলাম এখানে একটি স্বতন্ত্র বিকল্প প্রস্তাব করে। এটি বিশ্বাসের সাথে যুক্তির, আধ্যাত্মিকতার সাথে বিজ্ঞানের এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সাথে সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয় ঘটায়। রাসুলুল্লাহ সা: এরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী হবেন ন্যায়পরায়ণ শাসকরা’ (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৮২৫)। ইসলাম ঘোষণা করে যেÑপ্রকৃত অগ্রগতি আধিপত্য বিস্তারের মধ্যে নয়, বরং নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং সামাজিক সংহতির মধ্যে নিহিত।
পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান
ঐতিহাসিকভাবে, ইসলাম বিশ্বসংস্কৃতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছে। আব্বাসীয় আমলের বৈজ্ঞানিক উন্নতি, আন্দালুসিয়ার (স্পেন) স্থাপত্যশৈলীর উৎকর্ষ এবং অটোমানদের নৈতিক শাসনব্যবস্থা ইসলামী সভ্যতার ভেতর বিশ্বাস, বুদ্ধিমত্তা ও ন্যায়বিচারের এক অনন্য সংমিশ্রণের উদাহরণ হয়ে আছে। অনেক পশ্চিমা বুদ্ধিজীবী ইসলামের বিশ্বজনীন গুরুত্ব স্বীকার করে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা:-কে একজন মহান সংস্কারক হিসেবে গণ্য করেছেন, যিনি মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছিলেন। ইসলাম কেবল শাসনক্ষমতা চায় না; এটি ন্যায়বিচার চায়। কুরআন ঘোষণা করে, ‘তোমরাই হলে সর্বোত্তম জাতি, যাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও, অসৎ কাজে নিষেধ করো এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখো’ (সূরা আল-ইমরান, ৩:১১০)।
মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা ন্যায়বিচার, করুণা এবং নৈতিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে মানবজাতিকে নেতৃত্ব দেয়। রাসুলুল্লাহ সা: এরশাদ করেছেন, ‘পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া এবং সহমর্মিতার ক্ষেত্রে মুমিনরা একটি দেহের মতো।’ ‘যখন শরীরের কোনো একটি অঙ্গ আক্রান্ত হয়, তখন পুরো শরীর অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তাতে সাড়া দেয়’ (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৫৮৬)।
সুসংহত মুসলিম উম্মাহর পুনর্গঠন
অদম্য হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক মুসলিম বিশ্বে আজ দুর্বলতা ও অনৈক্য জেঁকে বসেছে। অসংখ্য মুসলিম দেশ জাতীয়তাবাদী, মাযহাবী এবং আদর্শিক বিভাজনে জর্জরিত হয়ে রাজনৈতিক পরনির্ভরশীলতা, বুদ্ধিবৃত্তিক খণ্ডবিখণ্ডতা এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার পরিচয় দিচ্ছে। রাসুলুল্লাহ সা: এরশাদ করেছেন, ‘আমার উম্মাহর ওপর এমন এক সময় আসবে যখন তাদের সংখ্যা অনেক হবে, কিন্তু তারা সমুদ্রের ফেনার মতো অকেজো হয়ে পড়বে’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪২৯৯)। এই ভবিষ্যদ্বাণী বর্তমান বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। এই ক্ষয়িষ্ণু অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মুসলিমদের অবশ্যই তাদের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শিকড় পুননির্মাণ করতে হবে। ইসলামী নীতিমালা যে বিশ্বজনীনÑএই বিশ্বাস তাদের মাঝে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় বিশ্বাসের গভীর অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নৈতিক লক্ষ্য পূরণে ব্যবহৃত হয়। ঐক্যকে অবশ্যই ভৌগোলিক সীমানা, ভাষা এবং যাবতীয় বিভেদের ঊর্ধ্বে নিয়ে যেতে হবে। কুরআন ঘোষণা করে, ‘তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না’ (সূরা আল-ইমরান, ৩:১০৩)। ন্যায়বিচার ও জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি সুসংহত উম্মাহই বিশ্বের নৈতিক দিকনির্দেশক হিসেবে নিজের হারানো স্থান পুনরুদ্ধার করতে পারে।
ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার আবেদন
ইসলাম এমন এক বিশ্বব্যবস্থার স্বপ্ন দেখে যা আধিপত্যের বদলে ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। বৈচিত্র্য মূলত ঐশ্বরিক প্রজ্ঞারই বহিঃপ্রকাশ; আর মানুষকে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার জন্য নয়, বরং ‘একে অপরকে জানার ও বোঝার জন্য’ সৃষ্টি করা হয়েছে (কুরআন ৪৯:১৩)। ইসলামে শান্তি মানে কেবল যুদ্ধের অনুপস্থিতি নয়, বরং প্রকৃত ন্যায়বিচারের উপস্থিতি। কুরআন ঘোষণা করে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ
তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে ফিরিয়ে দিতে এবং যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করবে’ (সূরা নিসা, ৪:৫৮)। যেখানে অবিচার, বৈষম্য এবং শোষণ বিদ্যমান, সেখানে কখনো প্রকৃত নিরাপত্তা বিরাজ করতে পারে না। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা, যা লোভ এবং পেশিশক্তির ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে, তা ইসলামের মূলনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ইসলাম প্রতিটি মানুষের জীবনকে মূল্যায়ন করে এবং নেতৃত্বকে আল্লাহর কাছে দায়বদ্ধ করার এক নৈতিক রূপরেখা প্রদানের মাধ্যমে এই প্রচলিত ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানায়।
উপসংহার
ইসলাম বিশ্বব্যাপী কোনো হুমকি নয়। প্রকৃত বিপদ লুকিয়ে আছে নৈতিক অবক্ষয়, অবিচার এবং বস্তুগত আধিপত্যের অন্ধ পূজার মাঝে। ইসলাম মানবজাতিকে এমন এক নৈতিক ও আধ্যাত্মিক রূপরেখা প্রদান করে যা ভারসাম্য, সত্যনিষ্ঠা এবং সহমর্মিতার পথে ফিরে আসতে সাহায্য করে।
মুসলিম উম্মাহকে অবশ্যই তাদের দুর্বলতা ও বিভেদ কাটিয়ে উঠতে হবে, ঐক্য পুনপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং জাতিসমূহের মধ্যে নৈতিক নেতা হিসেবে নিজেদের হারানো স্থান পুনরুদ্ধার করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণ, বুদ্ধিবৃত্তিক স্বচ্ছতা এবং সুদৃঢ় মনোবল। কুরআন ঘোষণা করে, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার (খোদাভীতি) কাজে একে অপরকে সাহায্য করো, কিন্তু পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সাহায্য করো না’ (সূরা মায়িদা, ৫:২)। দুর্নীতি ও অস্থিরতায় জর্জরিত এই বিশ্বে ইসলাম ন্যায়বিচার, প্রশান্তি এবং নৈতিক নির্দেশনার এক অনন্য আদর্শ উপস্থাপন করে। মুসলিমদের দায়িত্ব হলো এই স্বপ্নকে নিজেদের জীবনে ধারণ করা এবং চরিত্র, ন্যায়বিচার ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে তা বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করা। ইসলাম কোনো হুমকি নয়; বরং এটি নৈতিকতা রক্ষার জন্য মানবজাতির এক নিরন্তর আকাক্সক্ষারই প্রতিফলন। #



