দক্ষিণ নেপালে হিন্দু-মুসলিম সহিংসতায় নিহত ৩, আহত ২২

পড়তে ১ মিনিট

উচ্চশব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ | ছবি : সংগৃহীত


দক্ষিণ নেপালের সুনসারি জেলায় হিন্দু ধর্মীয় শোভাযাত্রায় উচ্চশব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ভারত সীমান্তবর্তী সুনসারি জেলার দেওয়ানগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের কাপ্তানগঞ্জ এলাকায় গত রোববার রাতে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

বার্ষিক ‘বোলবাম’ তীর্থযাত্রার শোভাযাত্রা একটি বাজার অতিক্রম করার সময় মাইকে উচ্চশব্দে গান বাজানো নিয়ে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা আপত্তি জানান। এ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হলেও পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষ লাঠি, পাথর, বাঁশ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ জানায়, টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি চালিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত গুলি চালানো হয়। এতে অন্তত ৩ জন নিহত হন। সংঘর্ষে এক ডজনের বেশি পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ সদস্যসহ মোট ২২ জন আহত হয়েছেন।

ঘটনার পর সুনসারি জেলাজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেওয়ানগঞ্জ, ইনারুয়াসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় কারফিউ জারি, জনসমাগম নিষিদ্ধ এবং অতিরিক্ত পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সমালোচনার মুখে সংশ্লিষ্ট জেলার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং জ্যেষ্ঠ প্রাদেশিক ও জেলা পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা নেপালের সাম্প্রদায়িক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে আগাম সতর্কতা, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়।

এদিকে রাজনৈতিক দল এবং হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারা সবাইকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গুজব, উসকানিমূলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং বিচ্ছিন্ন কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো কোনো সম্প্রদায়কে দায়ী না করার আহ্বানও জানিয়েছেন।

এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন