ইস্তাম্বুল সম্মেলনে ইনসাফভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও গাজায় জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান

পড়তে ১ মিনিট

ঢাকা, বাংলাদেশ

ইস্তাম্বুলে তিন দিনব্যাপী ১৩তম আন্তর্জাতিক বদিউজ্জামান সিম্পোজিয়ামে ‘বৈশ্বিক সংকটে কুরআনিক সমাধান’ শীর্ষক আলোচনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব, আলেম ও গবেষকেরা অংশ নেন।

ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়াম শক্তির দাপট নয়, বরং ন্যায়বিচার ও ইনসাফের ভিত্তিতে নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় অবিলম্বে ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক, পরিবেশগত, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত সংকট মোকাবিলায় ঈমানভিত্তিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

‘বৈশ্বিক সংকটে কুরআনিক সমাধান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ৪–৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ১৩তম আন্তর্জাতিক বদিউজ্জামান সিম্পোজিয়ামের সমাপনী অধিবেশনে এসব আহ্বান জানানো হয়।

ইস্তাম্বুল ফাউন্ডেশন ফর সায়েন্স অ্যান্ড কালচার (İİKV) আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের ৬০টি দেশের ৪৪৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী ৩৩০ জনেরও বেশি আলেম ও নেতা অংশ নেন। সম্মেলনে মোট ৬৬৮টি গবেষণাপত্র জমা পড়ে। সেগুলোর মধ্য থেকে নির্বাচিত ২৬২টি গবেষণাপত্র তুর্কি, আরবি, ইংরেজি ও রুশ ভাষায় উপস্থাপিত হয়। ১৯৯১ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা হচ্ছে।

সম্মেলনে কুরআন, সুন্নাহ এবং প্রখ্যাত মুসলিম চিন্তাবিদ বদিউজ্জামান সাঈদ নূরসীর শিক্ষা ও দর্শনের আলোকে সমসাময়িক বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে আসে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘রিসালে-ই নূর’।

সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেবদেত ইলমাজ, সিরিয়ার ওয়াকফমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ আবুলখায়ের শুকরি, তুরস্কের ধর্মবিষয়ক প্রধান অধ্যাপক ড. সাফি আরপাগুশ, ইস্তাম্বুল ফাউন্ডেশন ফর সায়েন্স অ্যান্ড কালচার (İİKV)-এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সাঈদ ইউসে এবং ব্রিটিশ সম্প্রচারক ও সাংবাদিক লরেন বুথ।

এ ছাড়া সৌদি আরবের বিশিষ্ট আলেম প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল আজিজ আল-মুসলিহ, সিরিয়ার মুফতি ড. ওসামা এর-রিফাই, পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান এবং আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাকির হোসেন সম্মেলনে অংশ নেন।

আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন (ডানে) ৪–৬ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ১৩তম আন্তর্জাতিক বদিউজ্জামান সিম্পোজিয়ামের পার্শ্ববৈঠকে সৌদি আরবের বিশিষ্ট আলেম প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল আজিজ আল-মুসলিহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন।

সম্মেলন সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “বৈশ্বিক সংকট ও চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান খুঁজতে কুরআনের শরণাপন্ন হওয়াই ছিল এই সিম্পোজিয়ামের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক। এটি মানবজাতির বর্তমান সংকট মোকাবিলায় ইসলামের গঠনমূলক ও দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি এবং এর প্রাসঙ্গিকতাকে তুলে ধরে।”

আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন (বাঁয়ে) ৪–৬ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ১৩তম আন্তর্জাতিক বদিউজ্জামান সিম্পোজিয়ামের পার্শ্ববৈঠকে ইস্তাম্বুল ফাউন্ডেশন ফর সায়েন্স অ্যান্ড কালচার (İİKV)-এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সাঈদ ইউসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন।

‘বৈশ্বিক সংকটে কুরআনিক সমাধান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের ফাঁকে ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন।


সম্মেলনে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানবজাতির মুখোমুখি হওয়া নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল ‘বৈশ্বিক সংকটে কুরআনিক সমাধান’, ‘নতুন বিশ্বব্যবস্থায় সভ্যতার ধারণা’, ‘সমাজ ও পরিবার’, ‘নতুন বিশ্বব্যবস্থায় সভ্যতার দৃষ্টিভঙ্গি’, ‘সংকট থেকে দায়িত্ববোধ: কুরআনভিত্তিক নৈতিক পুনর্জাগরণ এবং বদিউজ্জামান সাঈদ নূরসীর চিন্তায় সভ্যতা বিনির্মাণ’, ‘কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আধুনিক সামাজিক সমস্যার সমাধান’, ‘রাজনীতির ঊর্ধ্বে: মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা:-এর আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারের প্রাধান্য’ এবং ‘কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে সমাজে ঈমানের রূপান্তরকারী প্রভাব’।

বৈশ্বিক সংকটসমূহ

সিম্পোজিয়ামে যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, অবিচার, পরিবেশবিধ্বংস, পারিবারিক কাঠামোর দুর্বলতা, জীবনের অর্থ খুঁজতে তরুণ প্রজন্মের আকুলতা এবং ডিজিটাল যুগে ঈমান ও নৈতিকতার সামনে তৈরি হওয়া নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সমাপনী ঘোষণাপত্রে বলা হয়, বর্তমান বিশ্বের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সংকটগুলোর গভীরে রয়েছে একটি আধ্যাত্মিক সংকট। এর মূল কারণ হলো জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও অর্থ থেকে মানুষের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া। নৈতিক দিকনির্দেশনার অভাবে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও ক্ষমতার অগ্রগতি মানবকল্যাণের পরিবর্তে ধ্বংসের ক্ষমতাও বাড়িয়ে দিতে পারে।

সৃষ্টিজগৎ তার সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের নিদর্শন বহন করে—বদিউজ্জামান সাঈদ নূরসীর এই দর্শনের আলোকে অংশগ্রহণকারীরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, ন্যায়বিচার, দয়া, দায়িত্ববোধ ও মানবমর্যাদার ভিত্তিতে নতুন সভ্যতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

গাজা ও বৈশ্বিক ন্যায়বিচার

সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে গাজার বেসামরিক নাগরিক, হাসপাতাল, স্কুল ও উপাসনালয়ে ইসরায়েলি হামলা এবং ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর পথে বাধা সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এসব কর্মকাণ্ডকে ঘোষণাপত্রে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের বিরুদ্ধে মুসলিমদের আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অবিলম্বে হামলা বন্ধ, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা, বাধাহীন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের নিজেদের ভূখণ্ডে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সামগ্রিকভাবে, সম্মেলনে এমন এক বৈশ্বিক ব্যবস্থার সমালোচনা করা হয়, যেখানে ক্ষমতার দাপটে মানুষের অধিকার পদদলিত হয়, দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করা হয় এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক আইন কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, জাতি, ধর্ম কিংবা ভাষা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের জীবন, বুদ্ধি, বংশমর্যাদা, সম্পদ ও বিশ্বাস রক্ষা করা রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দায়িত্ব। অংশগ্রহণকারীরা স্বার্থপরতার পরিবর্তে মহৎ গুণাবলি, সংঘাতের পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বর্ণগত বা জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের পরিবর্তে ভ্রাতৃত্ববোধকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে পরামর্শ, স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং আইনের দৃষ্টিতে সমতাকে সুশাসনের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সংঘাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় হিসেবে পারস্পরিক সহযোগিতা, সংলাপ ও সেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে নূরসীর ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ বা পজিটিভ অ্যাকশন নীতির প্রতিও সমর্থন জানানো হয়।

অংশগ্রহণকারীরা বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, মতপার্থক্য যেন পারস্পরিক শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে অভিন্ন মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে ‘আহলে কিতাব’ এবং অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতার নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

নৈতিক সংকট

সিম্পোজিয়ামে পরিবেশবিধ্বংসকে একটি গভীর নৈতিক সংকট হিসেবে তুলে ধরা হয়। আলোচনায় বলা হয়, প্রকৃতিকে সীমাহীন ভোগের উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করাই এই সংকটের অন্যতম কারণ। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ভোগ কমানো, অপচয় রোধ এবং খাদ্যের অপচয় বন্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে পাঠযোগ্য একটি ‘বই’ হিসেবে দেখার নূরসীয় দর্শনের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এই দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে সৃষ্টিজগতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে উৎসাহিত করে।

অর্থনৈতিক সংকটের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীরা অতিরিক্ত লোভ ও সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখার প্রবণতাকে অস্থিরতার অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁরা দারিদ্র্য, মজুতদারি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি মিতব্যয়িতা, সন্তুষ্টি, কৃতজ্ঞতা ও হালাল উপার্জনের নীতি অনুসরণের সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে হালাল অর্থায়নব্যবস্থা এবং টেকসই ভোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পরিবারব্যবস্থা রক্ষা

পরিবারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা ছিল সম্মেলনের অন্যতম প্রধান সুপারিশ। এ লক্ষ্যে পরিবার সুরক্ষায় কার্যকর আইন প্রণয়ন, শিক্ষামূলক কর্মসূচি চালু, কাউন্সেলিং সেবা সম্প্রসারণ এবং নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রবীণদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তাঁদের যথাযথ যত্ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

শিক্ষা সম্পর্কে সম্মেলনে বলা হয়, শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; নৈতিক চরিত্র গঠনেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা উচিত। বদিউজ্জামান সাঈদ নূরসীর ‘মাদ্রাসা আল-জাহরা’ প্রকল্পের উল্লেখ করে অংশগ্রহণকারীরা প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। এ ব্যবস্থায় প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও ধর্মীয় জ্ঞানের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া নূরসীর ‘এ গাইড ফর ইয়ুথ’ বা ‘তরুণদের জন্য দিকনির্দেশনা’ গ্রন্থে বর্ণিত বিশ্বাস, সততা ও নৈতিক সংযমের নীতি অনুসরণের মাধ্যমে তরুণদের নিজস্ব পরিচয় ও জীবনের অর্থ খুঁজে পেতে সহায়তা করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

অভিবাসন প্রসঙ্গে যুদ্ধ ও অন্যান্য সংকটে বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রতি মানবিক আচরণের আহ্বান জানানো হয়। এ ক্ষেত্রে মানুষের জীবনের পবিত্রতা সম্পর্কে কুরআনের শিক্ষা এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা:-এর সময়ে আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে গড়ে ওঠা ভ্রাতৃত্ব ও সংহতির আদর্শ স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডিজিটাল জীবন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল জীবন নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে ব্যবহার করতে হবে এবং এর প্রয়োগ অবশ্যই নৈতিক মূল্যবোধের দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত।

তাঁরা ডিজিটাল আসক্তি, ‘অ্যাটেনশন ইকোনমি’ বা মানুষের মনোযোগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নৈতিক বিকাশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেন। পরিবার ও তরুণ প্রজন্মকে এসব ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে আত্মসচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তির পরিমিত ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

ঘোষণাপত্রে বিষণ্নতা, দুশ্চিন্তা ও মানসিক আঘাত মোকাবিলায় আধুনিক মনোচিকিৎসার সঙ্গে বিশ্বাস, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা ও আল্লাহর ওপর ভরসার মতো আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়।

বিজ্ঞান ও ধর্ম পরস্পরের পরিপূরক হতে পারে—এই অবস্থানে অটল থেকে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক জগৎ মূলত সৃষ্টিকর্তার নির্ধারিত শৃঙ্খলা ও সৃষ্টিশৈলীর নিদর্শন বহন করে। সত্য সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার এই সময়ে মানুষের বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করতে যুক্তিনির্ভর গবেষণা, প্রমাণভিত্তিক আলোচনা, সাহিত্যচর্চা ও শিল্পকলার চর্চার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সম্মেলনের আয়োজক কমিটি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো, তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (TİKA), প্রেসিডেন্সি ফর টার্কস অ্যাব্রোড অ্যান্ড রিলেটেড কমিউনিটিজ, অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য সহযোগী ও অবদানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়।

সম্মেলনে যাতায়াত সহযোগিতা দিয়েছে টার্কিশ এয়ারলাইন্স। অন্যদিকে, টিআরটি (TRT) ও আনাদোলু এজেন্সি যোগাযোগ অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।

আয়োজক কমিটি আশা প্রকাশ করে, সিম্পোজিয়ামে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সুপারিশগুলো বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা, মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক পুনর্জাগরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ‘রিসালে-ই নূর’-এর বার্তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।


এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন