ইরাকে ‘সার্বভৌমত্ব দিবস’, গুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন মিশন
লেখক:
আল-আসাদ বিমানঘাঁটিতে একটি সিএইচ-৪৭ চিনুক হেলিকপ্টারে উঠছেন মার্কিন সেনারা
জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সহায়তার লক্ষ্যে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত মিশন গুটিয়ে নিয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট প্রস্থান করায় ইরাক এক নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করছে।
চিফ পেন্টাগন স্পোকসম্যান শান পার্নেল বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, “আজ, যুক্তরাষ্ট্র এবং আমাদের জোটের সহযোগীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাকে ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’ শেষ করেছে।”
ইরাকে ১২ বছর অবস্থানকালে এই জোট যা-ই অর্জন করে থাকুক না কেন, তা নিয়ে গর্ব করার মতো বিষয় তারা কমই পাবে। ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা, যারা প্রায়শই ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাত, তারা এখন সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে, যা ইরানি প্রভাবের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরাক উভয়ের জন্যই ইরান একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
অন্য কথায়, ওয়াশিংটন যখন তার নিজস্ব উপস্থিতি ও প্রভাব সংকুচিত করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, ঠিক তখনই ইরান তার প্রভাবের ডানা বিস্তার করছে।
আইএসআইএস-কে (আইসিস) পরাস্ত করতে সহায়তা করার জন্য ২০১৪ সালে বাগদাদ মার্কিন বাহিনীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবুও, তাদের অবস্থান দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও, জোটের আইএসআইএস-বিরোধী অভিযান ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’ অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। আইএসআইএস দুর্বল হয়েছে কিন্তু নিঃশেষ হয়ে যায়নি। এর স্লিপার সেলগুলো এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং ইরাকি বাহিনী দেশের নিরাপত্তা নিজেরা সামলাতে পারবে কিনা সে বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় না।
তবে পার্নেল দাবি করেছেন, "এরবিল বিমানঘাঁটি থেকে জোটের সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহার ইরাকে আইএসআইএস-কে পরাস্তকারী সামরিক মিশনের সফল সমাপ্তিকে চিহ্নিত করে।"
ইরাক সরকার অবশ্য এটিকে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করেছে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবরকে “সারভৌমত্ব দিবস” হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়ে এই দুই দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।
বাতাস কোন দিকে বয় তা কেবল সময়ই বলে দেবে।



