গাজা যুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’ মুক্তির পরই ইতালির বক্স অফিসে শীর্ষে
লেখক:
ইতালির ভেনিসে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘নাজা’ চলচ্চিত্রের জন্য বিশেষ জুরি পুরস্কার হাতে পরিচালক ইউভাল আব্রাহাম ও রাচেল জোর। ছবি: রয়টার্স
গাজা যুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রথম দুই দিনেই ইতালির বক্স অফিসে শীর্ষস্থান দখল করেছে। ইতালীয় বক্স অফিস ট্র্যাকার সিনেটেল বুধবার জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত চলচ্চিত্রটির মোট আয় প্রায় ১০ লাখ ৯৬ হাজার ইউরো বা ১২ লাখ ৪০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে।
সিনেটেলের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার মুক্তির প্রথম দিনেই ‘নাজা’ বক্স অফিসের শীর্ষে উঠে আসে। ওই দিন চলচ্চিত্রটি ৪ লাখ ৫১ হাজার ৮৭২ ইউরো আয় করে এবং ৬০ হাজার ৪৬৭ জন দর্শক প্রেক্ষাগৃহে এটি দেখেন। একই দিনে পুনরায় মুক্তি পাওয়া অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম আয় করে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬১২ ইউরো।
মঙ্গলবারও শীর্ষস্থান ধরে রাখে ‘নাজা’। ওই দিন চলচ্চিত্রটি আরও ৬ লাখ ২৩ হাজার ১৬৪ ইউরো আয় করে এবং ৮৩ হাজারের বেশি দর্শক টানে। এ পর্যন্ত চলচ্চিত্রটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৯৬ হাজার ৮১৬ ইউরো এবং মোট দর্শকসংখ্যা ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭২০।
‘নাজা’ প্রথমে ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইতালিজুড়ে ৫১৫টি প্রেক্ষাগৃহে তিন দিনের বিশেষ সিনেমা ইভেন্ট হিসেবে মুক্তি পায়। অনেক প্রেক্ষাগৃহেই প্রদর্শনীর টিকিট পুরোপুরি বিক্রি হয়ে যায়। দর্শকদের ব্যাপক চাহিদার কারণে নির্ধারিত তিন দিনের পরও বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির প্রদর্শন অব্যাহত রয়েছে।
অস্কারজয়ী ইসরাইলি চলচ্চিত্র নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও রাচেল জোর পরিচালিত এই প্রামাণ্যচিত্রে ইসরাইলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে।
তেল আবিবের ছাদে তিন বছর ধরে গোপনে ধারণ করা এই চলচ্চিত্রে ২৪ জন ইসরাইলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাক্ষ্য রয়েছে। তাদের পরিচয় গোপন রাখতে কণ্ঠস্বর ও চেহারা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়েছে।
চলচ্চিত্রে সাক্ষ্য দেওয়া ইসরাইলি সামরিক সদস্যরা সম্ভাব্য বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত, অনুসরণ ও হামলার জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন পদ্ধতির বর্ণনা দেন। কেউ কেউ আবাসিক এলাকায় আগুন লাগানো এবং গাজায় খাদ্য বিতরণের সময় ফিলিস্তিনিদের হত্যার ঘটনা প্রত্যক্ষ করার কথাও জানান।
চলচ্চিত্রটির নাম ‘NAZA’ (নাজা) রাখা হয়েছে। এটি ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘আমান’-এর ব্যবহৃত একটি সংক্ষিপ্ত রূপ, যার মাধ্যমে বিমান হামলায় সম্ভাব্য বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বোঝানো হয় বলে চলচ্চিত্রটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ারের পর ‘নাজা’ প্রায় ২৫ মিনিটের স্ট্যান্ডিং ওভেশন পায়। পরে চলচ্চিত্রটি উৎসবের ‘বিশেষ জুরি পুরস্কার’ লাভ করে।
তবে প্রামাণ্যচিত্রটি ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সমালোচনারও মুখে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চলতি মাসের শুরুতে বলেন, চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের পর যারা ইসরাইলি সেনাদের ‘মানহানি’ করে, তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের জন্য তিনি পদক্ষেপ নেবেন।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি



