সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর

পড়তে ১ মিনিট

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় তিন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ চুক্তি সই হয়।

‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিত এ চুক্তির লক্ষ্য হলো যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করা।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তিভুক্ত তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তবে চুক্তির আওতায় প্রতিটি দেশের নির্দিষ্ট দায়িত্ব বা প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

তুরস্কের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, চুক্তিতে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার একটি ধারা রয়েছে, যা সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। এর মাধ্যমে আত্মরক্ষার প্রয়োজনে পারস্পরিক সহায়তার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরও জানান, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা পক্ষকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। আঞ্চলিক অন্য দেশগুলোও চাইলে ভবিষ্যতে এতে যোগ দিতে পারবে। পাশাপাশি এটি বিদ্যমান কোনো দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির বিকল্প নয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে ইরান ও তার মিত্ররা সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। একই সঙ্গে তারা এসব দেশের জ্বালানি রপ্তানির পথ ব্যাহত করারও চেষ্টা করছে।

চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী তিন দেশের আরেকটি অভিন্ন উদ্বেগ হলো—তারা ইসরাইল ও বিপ্লবী শিয়া রাষ্ট্র ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এমন এক সময়ে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো, যখন তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটির অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং জ্বালানি রপ্তানির পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এই প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো।

সূত্র : রয়টার্স


এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন