বিজেপি শাসিত পশ্চিমবঙ্গে একদিনে দুই গির্জায় হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ

পড়তে ১ মিনিট

গির্জায় হামলা, ভাঙচুর ও প্রার্থনাকারীদের মারধর | ছবি : সংগৃহীত

বিজেপি শাসিত ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একই দিনে দুটি গির্জায় হামলা, ভাঙচুর ও প্রার্থনাকারীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর খেজুরি ও বারাকপুর এলাকায় পৃথক এসব ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে খেজুরি থানার অধীন দেখালী জলপাইয়ের ‘দেখালী চার্চ অ্যান্ড মিশন’-এ রবিবারের প্রার্থনা সভা চলছিল। এ সময় ৫০ জনের বেশি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গির্জার পুরো প্রাঙ্গণ ঘিরে ফেলে। তারা নিজেদের বজরং দলের সদস্য বলে দাবি করে।

অভিযোগ রয়েছে, পরে ওই ব্যক্তিরা গির্জা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে পুণ্যার্থী ও যাজকের ওপর কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে হামলা চালায়। এ সময় উপস্থিত লোকজনকে ধর্মীয়ভাবে অবমাননাকর ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং গির্জার সব কার্যক্রম বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পুণ্যার্থীদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়।

ঘটনার পর স্থানীয় থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এলাকায় এখনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

একই দিনে দুপুর ২টার দিকে বারাকপুরের মোহনপুর থানার অন্তর্গত বিল্লা ডিপোর একটি বাড়িতে হামলার আরেকটি ঘটনা ঘটে। সেখানে তখন বিকেলের প্রার্থনা সভা চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িটিতে প্রবেশ করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে ধর্মীয় বইপত্র ছিঁড়ে ফেলে এবং বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। সেখানে উপস্থিত নারী প্রার্থনাকারীদের মারধর ও মৌখিকভাবে হেনস্তা করা হয়। পরে তিন নারীকে জোর করে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মোহনপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশ ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা পরীক্ষা করায় এবং একটি প্রথম তথ্য বিবরণী (এফআইআর) দায়ের করে। তবে তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার সময় এফআইআর ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো অনুলিপি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ভুক্তভোগীদের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে এ সময় বজরং দলের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত একটি জনতা থানার সামনে অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে ভুক্তভোগীদের নিরাপদে বের হয়ে আসতে বিলম্ব হয়।

ঘটনাগুলো নিয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব ঘটনাকে ধারাবাহিক ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন