পশ্চিম তীরে সহিংসতার মধ্যে গাজায় জরুরি রোগী স্থানান্তরে বাড়ছে সংকট

পড়তে ১ মিনিট

ফিলিস্তিনি শিশুর মরদেহ নিয়ে আসা হয়। —এপি

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজা উপত্যকায় চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার রোগীর সংকট কাটছে না। বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র তিন থেকে চারবার রোগীদের চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে নেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) এ তথ্য জানিয়েছে।

ডাব্লিউএইচও-এর মুখপাত্র তারিক জাসারেভিচ জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ১২ হাজার ৯১৩ জন রোগীকে গাজা থেকে চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ১৮৬ জন শিশু। এসব রোগীর সঙ্গে প্রায় ১৬ হাজার পরিবারের সদস্য বা সঙ্গীও গাজার বাইরে গেছেন।

তবে রোগী স্থানান্তরের বর্তমান গতি প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। জাসারেভিচ জানান, গত ২ থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে মাত্র ১০১ জন রোগী এবং ১৬৪ জন সঙ্গীকে গাজা থেকে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক লিখিত জবাবে বলেন, এখনো হাজার হাজার রোগী চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

দীর্ঘ এই অপেক্ষমাণ তালিকা গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর ভয়াবহ চাপের চিত্র তুলে ধরছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২৫৮ জন নিহত এবং ৪ হাজার ১৪৫ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মোট ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৫৬ জন।

পশ্চিম তীরেও বাড়ছে সহিংসতা

গাজার মানবিক সংকটের পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক ফিলিস্তিনি বাসিন্দার তিনতলা বাড়ি ডিনামাইট দিয়ে ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নাবলুসের কাছে তেল গ্রামের একটি তিনতলা বাড়ি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

গত মাসে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ওই বাড়ির মালিক নিহত হন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তিনি এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে ইসরায়েলিদের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন।

ওই সংঘর্ষে একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা এবং সিভিল ডিফেন্স ফোর্সের এক সদস্য নিহত হন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওই ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এরপর থেকে সামরিক অভিযান, সশস্ত্র সংঘাত ও অন্যান্য সহিংসতায় পশ্চিম তীরে ১ হাজার ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলাও বেড়েছে।

ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সহিংসতার জন্য ইসরায়েল সরকার ও সামরিক বাহিনীকে দায়ী করেছে। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক সমর্থন, নিরাপত্তা এবং বসতি স্থাপনকারীদের দায়মুক্তির সুযোগ দেওয়ার কারণেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

পশ্চিম তীরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়। বর্তমানে এসব এলাকায় প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি প্রায় ৭ লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে।

ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে ইসরায়েল ওই অঞ্চলগুলোর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।


সূত্র : ডেইলি সাবাহ


এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন