নেপাল বন্যায় নিহত ১৩০০-র বেশি মানুষের স্মরণে জাতীয় শোক দিবস পালিত

পড়তে ১ মিনিট

হিমালয়ের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণ হারানো ১ হাজার ৩০০-র বেশি মানুষের স্মরণ

হিমালয়ের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণ হারানো ১ হাজার ৩০০-র বেশি মানুষের স্মরণে সোমবার নেপালে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। গত মাসের ওই প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগের আজ ১৫তম দিন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শোক দিবস উপলক্ষে নেপালের সব সরকারি অফিস এবং বিদেশে অবস্থিত দেশটির কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

গত ২৬ আগস্ট নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে একটি হিমবাহ ভেঙে নদীতে বিশাল কাদা ও পাথরের স্রোত নেমে আসে। এর ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১ হাজার ৩৮০ জনের মৃত্যু হয় এবং ৫ হাজার ৫০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী দিনটি শোকের সমাপ্তি দিবস হলেও দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে সরকার কোনো বড় ধরনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি রাখেনি। ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের (এনইওসি) কর্মকর্তা ফণীন্দ্র রয়টার্সকে বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও সন্ধান অভিযান এখনো চলমান থাকায় কোনো সরকারি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়নি।

এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের দ্রুত খুঁজে বের করার দাবিতে কাঠমান্ডুতে প্রধানমন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত শত শত শ্রমিক এখনো নিখোঁজ থাকায় তাদের পরিবার চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান মূলত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর কেন্দ্রীভূত রয়েছে। এসব প্রকল্পে প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ এবং প্রায় ৫০০ জন বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ ও সুড়ঙ্গে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উদ্ধারকারীরা চারজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে শনিবার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিক ও এক নেপালি নারীকে এবং শুক্রবার অন্য একটি সুড়ঙ্গ থেকে দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়।

বন্যার্তদের সহায়তায় ঢাকার নেপাল দূতাবাসের ব্যাংক হিসাব

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় স্বেচ্ছায় আর্থিক অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকার নেপাল দূতাবাস। এ লক্ষ্যে দূতাবাস একটি বিশেষ ব্যাংক হিসাব চালু করেছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নেপাল দূতাবাস এক বার্তায় এ আহ্বান জানায়।

বার্তায় বলা হয়, এই দুর্যোগের পর বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ, নেপালের বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার প্রস্তাব পাওয়া যাচ্ছে। এ জন্য দূতাবাস কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

দূতাবাস জানায়, বন্যার্তদের সহায়তার বিষয়ে ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে স্বেচ্ছায় আর্থিক অনুদান গ্রহণের জন্য বিশেষ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।

ব্যাংক হিসাবের তথ্য:
ব্যাংক: কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসি
অ্যাকাউন্টের নাম: এম্বাসি অব নেপাল, ঢাকা
অ্যাকাউন্ট নম্বর: ১০০০০২৮৬২৯
শাখা: গুলশান

নেপাল দূতাবাস বাংলাদেশে বসবাসরত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোকে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

দূতাবাস বলেছে, বড় বা ছোট—প্রতিটি সহযোগিতাই এই দুর্যোগকালে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের জনগণের সহযোগিতায় নেপালের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে দূতাবাস।

রাষ্ট্রপতি রাম চন্দ্র পৌডেল আজ বন্যাকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার কার্যক্রমের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন।

এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন