ইসলামাবাদে ওআইসি নারী সম্মেলন : নারীদের ডিজিটাল ও আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নে যৌথ কর্মপরিকল্পনার তাগিদ

পড়তে ১ মিনিট

ইসলামাবাদে ওআইসি’র ৯ম মন্ত্রী পর্যায়ের নারী সম্মেলন । ছবি : ওআইসি’র ফেসবুক পেজ


মুসলিম বিশ্বের নারীদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পথ সুগম করতে এবং সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এক অভিনব ঐকমত্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর ৯ম মন্ত্রী পর্যায়ের নারী সম্মেলন।

সোমবার (১৩ জুলাই) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ‘ওআইসি দেশসমূহে নারীদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন : চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের উপায়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অধিবেশনে পাকিস্তানের উচ্চকক্ষ সিনেটের চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ রাজা গিলানির উপস্থিতিতে সম্মেলন শুরু হয়। এতে ওআইসি-এর সদস্য রাষ্ট্রের মন্ত্রী, কূটনৈতিক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


নেতৃত্বের দায়িত্বে পাকিস্তান ও নতুন ব্যুরো গঠন

অষ্টম অধিবেশনের চেয়ারপারসন ও মিশরের জাতীয় নারী পরিষদের সভাপতি কাউন্সেলর আমাল আম্মার আনুষ্ঠানিকভাবে নবম অধিবেশনের সভাপতিত্ব পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেন। নতুন কার্যনির্বাহী ব্যুরোতে চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছে পাকিস্তান। এছাড়া সৌদি আরব, সেনেগাল ও ফিলিস্তিনকে ভাইস-চেয়ারপারসন এবং মিশরকে রিপোর্টার (Rapporteur) হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

পাকিস্তানের আইন, বিচার ও মানবাধিকার বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী এবং সম্মেলনের নবম চেয়ারপারসন সিনেটর আজম নজির তারার বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং সমগ্র ওআইসি অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত।’

তিনি সংঘাত ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত, বিশেষ করে গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনি নারীদের পাশে দাঁড়াতে ওআইসি কর্মপরিকল্পনা (OPAAW) এবং উইমেন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (WDO)-কে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

ডিজিটাল অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নারীর অংশগ্রহণ

সম্মেলনের দ্বিতীয় কার্য অধিবেশনে বিশেষ গুরুত্ব পায় তথ্য-প্রযুক্তি ও ডিজিটাল দুনিয়ায় নারীদের অন্তর্ভুক্তি। পাকিস্তানের তথ্য প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী শাজা ফাতিমা খাজা এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ তাদের বক্তব্যে প্রযুক্তির রূপান্তরমূলক ভূমিকা তুলে ধরেন।

মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ পাঞ্জাবে নারীদের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তার জন্য নেওয়া ‘ডিজিটাল পুলিশ’ উদ্যোগের মতো আধুনিক সেবা এবং ডিজিটাল লিটারেসি প্রোগ্রামের উদাহরণ দিয়ে বলেন, নারীদের পেছনে বিনিয়োগ মানেই একটি শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক সমাজ গঠন। মুসলিম বিশ্বে ডিজিটাল লিঙ্গ বৈষম্য বা ‘ডিজিটাল জেন্ডার ডিভাইড’ দূর করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আইটি খাতে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

ওআইসি ও ইউএন উইমেনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব

ওআইসি মহাসচিব হিসেন ব্রাহিম তাহার পক্ষে বার্তা পাঠ করেন সহকারী মহাসচিব রাষ্ট্রদূত তারিক আলী বাখিত। বার্তায় ওআইসি চার্টার এবং ‘ওআইসি কর্মপরিকল্পনা ২০৩৫’-এর মাধ্যমে নারীর অবস্থান সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সাথে ইউএন উইমেন (UN Women)-এর চিফ অব স্টাফ মোহামেদ আল নাসেরি ওআইসি-এর সাথে হওয়া সমঝোতা স্মারক (MoU) অনুযায়ী দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি এবং প্রযুক্তিগত বৈষম্য দূর করতে একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

‘ইসলামাবাদ ঘোষণা’ ও পুরস্কার বিতরণী

সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ওআইসি-এর সিনিয়র কর্মকর্তাদের সুপারিশে ‘খসড়া অমনিবাস প্রস্তাবনা’ এবং যৌথ ‘ইসলামাবাদ ঘোষণা'’ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এশিয়ান ও আফ্রিকান গ্রুপের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ওআইসি উইমেন কনসালটেটিভ কাউন্সিলের (WCC) নতুন সদস্যপদ অনুমোদন করা হয় এবং আরব গ্রুপকে তাদের বাকি তিনটি পদের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়।

অধিবেশনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘প্রযুক্তিতে নারীর ভূমিকা’ প্রতিপাদ্যের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত ‘৩য় ওআইসি নারী অর্জন পুরস্কার’। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য মুসলিম বিশ্বের সফল নারী ও প্রতিষ্ঠানের হাতে এই সম্মাননা সনদ তুলে দেওয়া হয়।

চমৎকার আতিথেয়তা এবং সফলভাবে এই সম্মেলন আয়োজন করার জন্য ওআইসি সাধারণ সচিবালয় এবং অংশগ্রণকারী দেশগুলো পাকিস্তান সরকার ও জনগণের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে।

এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন