আলিজা ইজেতবেগোভিচের গ্রন্থ ‘ইসলাম : বিটুইন ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট’র ইংরেজি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন
লেখক:
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার দার্শনিক, রাষ্ট্রনায়ক এবং প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি আলিজা ইজেতবেগোভিচের কালজয়ী গ্রন্থ ‘ইসলাম : বিটুইন ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট’-এর সংশোধিত ইংরেজি অনুবাদ (মে ২০২৬ সংস্করণ)-এর আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে দ্য কর্ডোবা ফাউন্ডেশন। এই গ্রন্থটির প্রকাশনায় সহযোগিতা করেছে আলিজা ইজেতবেগোভিচ ফাউন্ডেশন।
আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) লন্ডন মুসলিম সেন্টারে (সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট থেকে রাত ৯টা) এই প্রকাশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে শত শত অতিথির উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
‘ইসলাম : বিটুইন ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট’ বিশ্বাস, সভ্যতা এবং মানবজীবনের গভীর তাৎপর্য নিয়ে রচিত একটি অসাধারণ দার্শনিক গ্রন্থ। এর প্রথম ইংরেজি সংস্করণ ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয়, যখন লেখক আলিজা ইজেতবেগোভিচ রাজনৈতিক বন্দি ছিলেন। এরপর গ্রন্থটির আরও চারটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে যে, ইসলাম পশ্চিমের বস্তুবাদ এবং প্রাচ্যের বিমূর্ত চিন্তার মধ্যবর্তী একটি ভারসাম্যপূর্ণ পথ নির্দেশ করে—যেখানে মানুষকে একই সঙ্গে দেহ ও আত্মার সমন্বিত সত্তা হিসেবে দেখা হয়। ইংরেজি ভাষাভাষী পাঠকদের কাছে প্রথম পৌঁছানোর তিন দশকেরও বেশি সময় পরও পরিচয়, অন্তর্ভুক্তি ও সহাবস্থান নিয়ে বইটির প্রশ্নগুলো আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
এই প্রকাশনা অনুষ্ঠান একই সঙ্গে স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার ৩১তম বার্ষিকীও স্মরণ করবে। ইউরোপের মাটিতে সংঘটিত ওই গণহত্যায় আট হাজারেরও বেশি বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও কিশোরকে হত্যা করা হয়েছিল। তাই এই আয়োজন একদিকে যেমন নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য, অন্যদিকে বিশ্ব সেই ট্র্যাজেডি থেকে কী শিখেছে এবং কী শিখতে ব্যর্থ হয়েছে—সেই আত্মসমালোচনারও একটি উপলক্ষ। অনুষ্ঠানে স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনীও থাকবে।
দ্য কর্ডোবা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং দীর্ঘদিনের স্রেব্রেনিৎসা-সচেতনতা কর্মী ড. আবদুল্লাহ ফালিক বলেন, ‘আলিজা ইজেতবেগোভিচের জীবন ও চিন্তা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে সংলাপ ও মানবিক মর্যাদা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য। স্রেব্রেনিৎসার স্মৃতিকে সামনে রেখে তাঁর রচনা নতুন করে পাঠ করা মানে নিজেদের কাছে এই প্রশ্ন তোলা—আমরা কেমন ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছি, এবং অতীতকে স্মরণ করার সাহস আমাদের আছে কি না।’
বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে বসনিয়া থেকে লন্ডনে আসছেন ইজেতবেগোভিচের কন্যা সাবিনা বারবেরোভিচ। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমার বাবা ছিলেন একজন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি দর্শন ও রাজনীতি বিষয়ে প্রচুর বই পড়তেন এবং কমিউনিস্ট চিন্তাধারা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব অনুভব করতেন। শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর বিশ্বাস—ইসলামের মধ্যেই সেই মৌলিক মূল্যবোধগুলো খুঁজে পান, যার সন্ধান তিনি করছিলেন। তাঁর কাছে আল্লাহবিহীন একটি বিশ্ব ছিল অর্থহীন একটি বিশ্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ব্যক্তিগত চিন্তার যাত্রা থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে বাবা, তখনও কিশোর বয়সে, একটি বই লেখা শুরু করেন। তিনি কাগজে বইটির মৌলিক কাঠামো, ভাবনা ও ধারণাগুলো লিপিবদ্ধ করেন এবং এর নাম দেন ‘ইসলাম : বিটুইন ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট।’
বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে একদল বিশিষ্ট ব্যক্তি বক্তব্য দেবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আলিজা ইজেতবেগোভিচ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও তাঁর কন্যা সাবিনা বারবেরোভিচ; যুক্তরাজ্যে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. ওসমান তোপচাগিচ; কেমব্রিজ মুসলিম কলেজের ডিন শাইখ প্রফেসর আবদাল হাকিম মুরাদ; অধ্যাপক ও বসনিয়া যুদ্ধের প্রবীণ যোদ্ধা ড. আদমির মুলাওসমানোভিচ; অনলাইনে যুক্ত হবেন শাইখ ড. ইয়াসির কাদি; সারায়েভো অবরোধ কভার করা সাবেক বিবিসি যুদ্ধসংবাদদাতা মার্টিন বেল; লেখক ও সম্প্রচারক সারাহ জোসেফ ওবিই; এবং মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের মহাসচিব ড. ওয়াজিদ আখতার।



