ইসরাইলের লক্ষ্য ও আল্লাহর ইচ্ছার মধ্যবর্তী বাস্তবতা
লেখক:
গাজায় ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণ হারানো ফিলিস্তিনিদের অবশিষ্টাংশ (মৃতদেহ) দাফনের দৃশ্য
অঞ্চল পুনর্গঠনের ৫০ বছর: রাষ্ট্র ভেঙে দেওয়া থেকে সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ ও পরনির্ভরশীলতা তৈরি
মধ্যপ্রাচ্যে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তারকারী শক্তিতে পরিণত হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ইসরাইল আর গোপন রাখছে না। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে তারা শুধু বিভিন্ন দেশের রাজধানী ও সেনাবাহিনী দখল করার পথ বেছে নেয়নি; বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য, কৌশলগত যোগাযোগপথ এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
আজ আমরা যা প্রত্যক্ষ করছি, তা বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা নয়; বরং এটি একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া, যার পরিণতিগুলো আমাদের চোখের সামনেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শান্তিচুক্তি থেকে শুরু করে ইরাকের ধ্বংসযজ্ঞ, সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের কর্তৃত্ববাদী শাসন ও পরবর্তী পতন, লিবিয়া, সুদান ও ইয়েমেনের বিভক্তি এবং সবশেষে আব্রাহাম চুক্তি—এই ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্য তার শক্তির কেন্দ্রগুলো হারিয়েছে। অন্যদিকে, নিজেদের ইচ্ছা ও স্বার্থ এ অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ ইসরাইলের জন্য ক্রমেই বেড়েছে।
ইসরাইল যে এসব সংকটের সবকিছু নিজেরাই সৃষ্টি করেছে, তা জরুরি নয়। তাদের জন্য সংকটগুলোকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানো এবং সেগুলোর পরিণতিকে নিজেদের পরিকল্পনার অনুকূলে পরিচালিত করাই যথেষ্ট। যতক্ষণ তারা আঞ্চলিক সিদ্ধান্তগুলোকে প্রভাবিত করতে, দেশগুলোর শক্তি দুর্বল করতে এবং তাদের নিরাপত্তাকে নিজেদের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করতে পারছে, ততক্ষণ পুরো অঞ্চল দখল করার প্রয়োজন তাদের নেই।
আধিপত্যের চাবিকাঠি: কৌশলগত সমুদ্রপথ
ইসরাইলের তৎপরতার মানচিত্রে চোখ রাখলে বোঝা যায়, সংঘাত আর শুধু ফিলিস্তিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর বিস্তৃতি ঘটেছে লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, এডেন উপসাগর ও পূর্ব ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত। সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক, হর্ন অব আফ্রিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাবের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র এবং ইয়েমেন ও সুদানের চলমান পরিবর্তনগুলো ইসরাইলের কৌশলগত হিসাব-নিকাশে বন্দর, দ্বীপ ও সমুদ্রপথের গুরুত্ব তুলে ধরে।
এখানেই ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের মিল ঘটেছে। কারণ, বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের পথগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে এমন প্রভাব অর্জন করা যায়, যা অনেক ক্ষেত্রে সামরিক শক্তিকেও ছাড়িয়ে যায়।
উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব কৌশলগত অবস্থানের অধিকারী আরব দেশগুলোর অনেকেই এখন যুদ্ধ ও বিভাজনে নিমজ্জিত, অথবা বহিরাগত শক্তির নিরাপত্তা-সুরক্ষার ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। ফলে আরব ভূগোল ও ভৌগোলিক অবস্থান নিজেদের শক্তির উৎস হওয়ার পরিবর্তে অন্যদের প্রভাব বিস্তারের উন্মুক্ত ক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে।
সৌদি আরব: ক্ষয়িষ্ণু শক্তি ও জোটের ফাঁদ
সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে চলমান সংঘাত এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি উদাহরণ। হুথিদের হামলা সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে দুর্বল করছে এবং দেশটির অবকাঠামো ও অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলছে। অন্যদিকে, ইসরাইল এই হুমকিকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে সৌদি আরবের এমন এক নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে, যে দেশটিকে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে। ইসরাইলি বিভিন্ন প্রতিবেদনে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব এবং হুথিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
এখানে প্রশ্ন ওঠে: সৌদি আরবের বর্তমান নিরাপত্তা-সংকট কি দেশটিকে এমন একটি নিরাপত্তাব্যবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়ার পথ তৈরি করছে, যেখানে ইসরাইল অংশীদার হিসেবে যুক্ত হবে? আর এর মধ্য দিয়ে কি ফিলিস্তিন ইস্যুকে পাশ কাটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পথ প্রশস্ত হবে?
ইয়েমেনে নিজেদের শক্তি ক্ষয় করা সৌদি আরবের স্বার্থের অনুকূলে নয়। দেশটি মক্কা জোটকে (Alliance of Makkah) হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের পক্ষে মিসরও সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনকে স্থায়ী সংঘাতের ময়দানে পরিণত করা আরব কিংবা মুসলিম—কারও স্বার্থেই কল্যাণকর নয়। এ পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে প্রয়োজন সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যুদ্ধের অবসান ঘটানো, ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনরুদ্ধার করা এবং নিরাপত্তার হুমকিকে কাজে লাগিয়ে কোনো দেশের ওপর পরনির্ভরশীলতা চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করা।
আরব শাসকগোষ্ঠী ও রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির সংকট
সমস্যাটি শুধু ইসরাইলের শক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; আরব দেশগুলোর রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির দুর্বলতাও এর অন্যতম কারণ। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মরক্কো, মিসর থেকে শুরু করে বিভক্তি ও অভ্যন্তরীণ সংকটে জর্জরিত দেশগুলো পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু উদ্বেগজনক বাস্তবতা হলো, আঞ্চলিক স্বার্থ ও জোটের ভেতরে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ইসরাইলের সক্ষমতা ক্রমেই বাড়ছে।
আব্রাহাম চুক্তিগুলোকে শান্তি ও সমৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আরও গভীর প্রশ্ন সামনে আসছে: স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে কি এমন একটি আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে, যা ইসরাইলকে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে?
দখলদারিত্ব, অবৈধ বসতি স্থাপন ও আগ্রাসন অব্যাহত রেখে যে শান্তির কথা বলা হয়, তা আসলে কেমন শান্তি? ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার দাবি করা হয়, তার ভিত্তিই বা কোথায়? কিংবা সিরিয়ার ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রেখে কীভাবে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব?
আমাদের উম্মাহর জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয়গুলোর একটি হলো, কিছু শাসকের ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বার্থ বিদ্যমান আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তাদের কাছে এমন এক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার মূল্য দিতে তারা ভয় পান।
তবে প্রজন্মের লড়াইয়ে ইসরাইল হারছে
এই অন্ধকার পরিস্থিতির মধ্যেও আরেকটি পরিবর্তনের সূচনা হচ্ছে, যার প্রভাব হয়তো সামরিক জোটগুলোর চেয়েও গভীর হতে পারে। গাজার দৃশ্যপটের মধ্য দিয়ে একটি নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক ও নৈতিক চেতনা গড়ে উঠছে। তারা দখলদারিত্বের বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করছে এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে পশ্চিমা বিশ্বের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের স্লোগানের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের বিশাল ব্যবধান উপলব্ধি করছে।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইসরাইলের যে বয়ান আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশেষ সুবিধা ও সুরক্ষা পেয়ে এসেছে, তা এখন আর আগের মতো প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নেই। পূর্ব ও পশ্চিমের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজপথে তরুণ প্রজন্ম প্রতিবাদে নেমেছে। তারা দখলদারিত্ব ও অবৈধ বসতি স্থাপনের বিরোধিতা করছে এবং ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি দাবি করছে।
এখানেই বড় বৈপরীত্যটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইসরাইল প্রচলিত ক্ষমতার ভারসাম্যে সুবিধা অর্জন করলেও জনচেতনা, নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক বৈধতার ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। কারণ, এই লড়াইয়ের মূল বিষয় দখলদারিত্ব, অন্যায় ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান।
বিশ্বজগতে আল্লাহর বিধান: সংকটের মধ্য থেকেই শক্তির উত্থান
ইতিহাস শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে নির্মিত হয় না, আর শক্তির ভারসাম্যও স্থায়ী থাকে না। আল্লাহ তাআলা বলেন,
‘আর এই দিনগুলোকে আমি মানুষের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আবর্তন করি।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৪০)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।’ (সূরা আর-রাদ, আয়াত ১১)
আল্লাহর বিধান অনুযায়ী, কঠিন পরিস্থিতি মানুষের চেতনাকে জাগিয়ে তুলতে পারে। বিপর্যয় ও সংকটের মধ্য দিয়েই এমন প্রজন্ম গড়ে উঠতে পারে, যারা নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হবে। তবে যারা শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করে কিংবা পরিবর্তনের অপেক্ষায় বসে থাকে, বিজয় তাদের জন্য নিশ্চিত নয়। বিজয়ের জন্য প্রয়োজন ঈমান, জ্ঞান, কর্ম, প্রস্তুতি ও ধৈর্য।
আজকের ঘটনাপ্রবাহ হয়তো এমন একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে ওঠার সূচনা, যারা নেতৃত্বের অক্ষমতাকে উত্তরাধিকার হিসেবে গ্রহণ করবে না, স্বৈরাচার মেনে নেবে না এবং প্রতিরোধকে শুধু সামরিক সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে না। বরং তারা এমন একটি সভ্যতাভিত্তিক কর্মসূচি গড়ে তুলবে, যেখানে জ্ঞান, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনসম্পৃক্ততা এবং সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনি কার্যক্রম সমন্বিত হবে।
এই প্রজন্ম ফিলিস্তিনকে সহায়তা করা এবং মুসলিম দেশগুলোকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য বুঝবে। তারা সাহসিকতা ও বেপরোয়া দুঃসাহসের তফাত উপলব্ধি করবে। একইভাবে, প্রকৃত প্রতিরোধ এবং পরিণতি বিবেচনা না করে শুধু স্লোগান দেওয়ার মধ্যকার পার্থক্যও বুঝতে শিখবে।
আগামী দিনের লড়াই মানুষ ও চেতনাকে ঘিরে
ইসরাইল হয়তো বিভিন্ন চুক্তি চাপিয়ে দিতে পারবে, বন্দরগুলোতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে পারবে এবং বিভিন্ন সরকারকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হবে। কিন্তু আগামী প্রজন্মের আনুগত্য নিশ্চিত করতে পারবে না।
এখানেই আমাদের দায়িত্ব শুরু। ক্রমবর্ধমান এই সচেতনতাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণাকেন্দ্র, গণমাধ্যমের প্রকল্প, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সুসংগঠিত মানবাধিকার ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে রূপ দিতে হবে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হতে হবে মুক্তি অর্জন ও পুনর্গঠনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
যে চেতনা প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিতে রূপ নিতে পারে না, তা একসময় হারিয়ে যেতে পারে। একইভাবে, যে ক্ষোভ কোনো সুপরিকল্পিত ও স্থায়ী কর্মসূচিতে পরিণত হয় না, তা শেষ পর্যন্ত সেই ক্ষোভ ধারণকারীদেরই নিঃশেষ করে দিতে পারে।
ইসরাইলের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ শুধু নতুন কোনো সামরিক শক্তির আবির্ভাব নয়; বরং এমন একটি আরব, ইসলামী ও মানবিক প্রজন্মের জন্ম নেওয়া, যাদের জ্ঞান ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি রয়েছে এবং যারা এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎকে আধিপত্য ও দখলদারিত্বের প্রকল্পের কাছে জিম্মি রাখতে অস্বীকার করে।
ইসরাইল আজ হয়তো নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ায় অবস্থান করছে। কিন্তু শক্তির শিখরে পৌঁছানো মানেই চিরস্থায়ী আধিপত্যের নিশ্চয়তা নয়। ইতিহাসে কোনো আধিপত্যই চিরকাল স্থায়ী হয়নি।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর ফেনা তো শুকিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়, আর যা মানুষের উপকারে আসে, তা জমিনে থেকে যায়।’ (সূরা আর-রাদ, আয়াত ১৭)
বিগত কয়েক দশকে যদি ইসরাইলের স্বার্থে এই অঞ্চলের পুনর্বিন্যাস ঘটে থাকে, তবে আশা করা যায়, আগামী দশকগুলোতে এমন এক জনগোষ্ঠী ও নেতৃত্বের পুনর্গঠন ঘটবে, যারা এই আধিপত্য প্রত্যাখ্যান করবে এবং তা পরিবর্তন করার সক্ষমতা অর্জন করবে।
জায়নবাদী প্রকল্পের আধিপত্যবাদী আকাঙ্ক্ষা প্রতিহত ও ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—একটি সুসংহত, ঐক্যবদ্ধ ও পারস্পরিক বিরোধমুক্ত নেতৃত্ব গড়ে তোলা, যারা একান্তভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করবে। এমন নেতৃত্ব, যারা পদ-পদবি কিংবা ক্ষমতার মোহে পরিচালিত হবে না; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে নিষ্ঠার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করবে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ ও প্রবৃত্তির ঊর্ধ্বে উঠে ফিলিস্তিন ও সমগ্র উম্মাহর স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।
এটি এমন কোনো আকাঙ্ক্ষা নয়, যা বাস্তব কাজের বিকল্প হতে পারে। বরং এটি এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার দায়িত্ব, যার প্রস্তুতি ও বিকাশে আমাদের এখন থেকেই অংশ নিতে হবে।


