পশ্চিম তীরে আরো একটি অবৈধ আবাসনে ইসরাইলিদের বসবাস শুরু
লেখক:
পশ্চিম তীরে 'গিভাত জিব' নামের অবৈধ ইসরাইলি বসতির নির্মাণ কাজ। -এএফপি
অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের জেনিনের পশ্চিমে আরাবা শহরের ফিলিস্তিনি জমিতে গড়ে তোলা নতুন অবৈধ ইসরাইলি বসতি ‘মেভোট ডোটান’-এ (এমেক ডোটান) বসবাস শুরু করেছে ইসরাইলি দখলদাররা।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু।
ইসরাইলের চ্যানেল ৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার সরঞ্জামবাহী ট্রাকগুলো নতুন বসতিতে পৌঁছানোর পর এর প্রতিষ্ঠাতা দলের প্রথম কয়েকটি ইসরাইলি পরিবার নির্মিত ঘরবাড়িতে উঠতে শুরু করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার অনুষ্ঠিতব্য আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আগেই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলিদের বসতি স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়। ওই অনুষ্ঠানে ইসরাইলি মন্ত্রিসভার সদস্য, নেসেটের (পার্লামেন্ট) সদস্য এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ইয়োভ কিশ, নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের মন্ত্রী জিভ এলকিন, নেসেট সদস্য কেটি শিট্রিট, বোয়াজ বিসমুথ ও নিসিম ভাতুরি এবং আমানা বসতি স্থাপনকারী সংগঠনের মহাসচিব জিভ হেভারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এছাড়া লোদ ও তিবেরিয়াসের ‘ইয়েশিভাত বেরোর হায়িল’ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান রাব্বি হাইম বারুচও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। চ্যানেল ৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরাই নতুন বসতির প্রথম বাসিন্দা।
সামারিয়া আঞ্চলিক কাউন্সিলের নেতৃত্বে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৯টি নতুন বসতি স্থাপনের যে বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, ‘মেভোট ডোটান’ তারই অংশ। এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
চ্যানেল ৭ জানিয়েছে, এক বছরেরও কম সময়ে সামারিয়া আঞ্চলিক কাউন্সিলের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এটি পঞ্চম বসতি।
ইসরাইলি দৈনিক ‘ইসরাইল হায়োম’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের ইসরাইলি ‘বিচ্ছিন্নকরণ পরিকল্পনা’র পর উত্তরাঞ্চলীয় পশ্চিম তীরের এমন একটি এলাকায় এই প্রথম নতুন বসতি গড়ে তোলা হলো, যেখানে আগে কোনো ইসরাইলি বসতি ছিল না।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীর দখল করে নেয়। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং অবৈধ বলে মনে করে। এসব বসতির সম্প্রসারণকে দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাতের দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণকে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল এবং অঞ্চলটিকে বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিত করার বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে দেখে।
২০১৬ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাবে বলা হয়, ১৯৬৭ সাল থেকে দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, যার মধ্যে পূর্ব জেরুজালেমও রয়েছে, সেখানে ইসরাইলি বসতিগুলোর কোনো আইনি বৈধতা নেই। প্রস্তাবে এসব বসতি আন্তর্জাতিক আইনের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলেও উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এক উপদেষ্টা মতামতে জানায়, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের অব্যাহত উপস্থিতি বেআইনি এবং যত দ্রুত সম্ভব তা শেষ করা উচিত।



