টানা তৃতীয় বছর ত্রাণকর্মীদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী স্থান গাজা : জাতিসংঘ

পড়তে ১ মিনিট

ইসরাইলি হামলায় গাজার ধ্বংসস্তুপ


টানা তৃতীয় বছরের মতো গাজা বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তাকর্মীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় সংস্থা (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে গাজায় ১৮৬ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন।

বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ওসিএইচএ জানায়, ত্রাণকর্মী নিহতের সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সুদান। দেশটিতে ২০২৫ সালে ৭১ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন।

‘হিউম্যানিটেরিয়ান আউটকামস’-এর ‘এইড ওয়ার্কার সিকিউরিটি ডাটাবেস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে মোট ৯০৭ জন ত্রাণকর্মী নিহত, আহত বা অপহরণের শিকার হয়েছেন। ত্রাণকর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন রেকর্ড।

তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বজুড়ে ৩৫০ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ৩২২ জন আহত এবং ২৩৫ জন অপহৃত হয়েছেন। বার্ষিক মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমলেও ত্রাণকর্মীদের বিরুদ্ধে সামগ্রিক সহিংসতার মাত্রা কমার কোনো লক্ষণ নেই বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী টম ফ্লেচার বলেন, মাত্র তিন বছরে এক হাজারের বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। রাষ্ট্রগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও ত্রাণকর্মীদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনাও জরুরি।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২৬ সালেও ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অন্তত ৮২ জন ত্রাণকর্মী নিহত, ৯৭ জন আহত এবং ৩৯ জন অপহৃত হয়েছেন।

বাড়ছে ড্রোন হামলার ঝুঁকি

এদিকে সস্তা ও সহজে পরিবর্তনযোগ্য সশস্ত্র ড্রোনের বিস্তার সাধারণ মানুষ ও ত্রাণকর্মীদের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে এ ধরনের হামলার আশঙ্কা বাড়ছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে সুদানে সাধারণ মানুষের ৮০ শতাংশ মৃত্যুর পেছনে ছিল সশস্ত্র ড্রোন হামলা। এসব হামলায় বাজার ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনাও আক্রান্ত হয়েছে।

ইউক্রেনে শুধু এপ্রিল মাসেই ড্রোন হামলায় ৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। রাশিয়াতেও ড্রোন হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে কলম্বিয়ায় ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অস্ত্রসজ্জিত ড্রোনের মাধ্যমে হামলার ঘটনা চার গুণ বেড়েছে।

ত্রাণকর্মীরাও ক্রমবর্ধমানভাবে ড্রোন হামলার শিকার হচ্ছেন। গত মার্চে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় এক ত্রাণকর্মী নিহত হন। মে মাসে ইউক্রেনে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি মানবিক সহায়তাবাহী ট্রাকে ড্রোন হামলা চালানো হয়।

টম ফ্লেচার বলেন, অস্ত্রসজ্জিত ড্রোন পুরোনো বিপদের নতুন রূপ হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির পরিবর্তন হলেও যুদ্ধের মৌলিক নিয়ম পরিবর্তন হওয়া উচিত নয়।

জাতিসংঘের মতে, গাজা, সুদান ও অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।


সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন