গাজায় ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানাল ৮ মুসলিম দেশ

পড়তে ১ মিনিট

ইসরাইলি হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের মাঝে তরুণ ফিলিস্তিনিরা। —রয়টার্স

গাজায় ইসরাইলের চলমান হামলা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্কসহ আটটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে দেশগুলো বলেছে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং গাজা সংঘাত অবসানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

বৃহস্পতিবার তুরস্ক, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত হামলায় বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা হতাহত হচ্ছে। এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং ‘গাজা সংঘাত সমাধানের সার্বিক পরিকল্পনা’র স্পষ্ট লঙ্ঘন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনি দলগুলোর এই রোডম্যাপ গ্রহণের কথা ঘোষণার পরও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা পরিকল্পনাটির দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জোর দিয়ে বলেন, বেসামরিক নাগরিক ও চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র সুরক্ষা এবং গাজার সর্বত্র নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা।

যৌথ বিবৃতিতে গাজার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের বিদ্যমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের একতরফা প্রচেষ্টারও নিন্দা জানানো হয়।

দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, এসব কর্মকাণ্ড শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া, দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভিত্তি দুর্বল করা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব লঙ্ঘনের একটি ধারাবাহিক নীতির অংশ।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে তাদের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবসহ আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা ইসরাইল মেনে চলছে কি না, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে গুরুতর লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান তারা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, এ ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।

বিবৃতিতে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের কোনো অংশ যুক্ত করে নেওয়া কিংবা ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো প্রচেষ্টাও প্রত্যাখ্যান করা হয়। পাশাপাশি স্থায়ী শান্তির জন্য ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।


সূত্র : ডেইলি সাবাহ

এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন