আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইটের ঢাকা অফিস উদ্বোধন

পড়তে ১ মিনিট

‘আল-উম্মাহ’ জার্নাল ও ওয়েবসাইটের ঢাকা অফিসের শুভ উদ্বোধন | ছবি : আল-উম্মাহ

জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও গঠনমূলক বুদ্ধিবৃত্তিক সংলাপকে বৈশ্বিক পরিসরে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ‘আল-উম্মাহ’ জার্নাল ও ওয়েবসাইটের ঢাকা অফিসের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

গবেষক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, সাংবাদিক ও তরুণ চিন্তাবিদদের জন্য সমসাময়িক বৈশ্বিক ইস্যু, মুসলিম উম্মাহর চ্যালেঞ্জ এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাধান নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে শনিবার (১৫ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই অফিসের উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। নতুন লেখক তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আল-উম্মাহর মাধ্যমে সম্ভাবনাময় লেখকদের একটি প্ল্যাটফর্মে একত্র করা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগের প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর প্রকৃত চেতনাকে আরও শাণিত করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের সাবেক উপাচার্য নকীব মুহাম্মদ নাসরুল্লাহ। মুসলিম উম্মাহর বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উম্মাহ নানা ধরনের কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সমসাময়িক বিশ্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। তবে হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। এ সময় তিনি রবার্ট ফ্রস্টের কবিতার পংক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, ‘গহন বনটি বড়ই সুন্দর, ছায়াময় ও গভীর; কিন্তু রক্ষিতে হবে যে কথা, রেখেছি যা অঙ্গীকার। বিশ্রামের পূর্বে চলিতে হবে বহুদূর।’

আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও আল-উম্মাহ জার্নালের সম্পাদক মো. জাকির হোসেন বলেন, মুসলিম বিশ্বে সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য কোনো শক্তিশালী গণমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম নেই। অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)-এর অধীনে একসময় ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক নিউজ এজেন্সি (আইআইএনএ) নামে একটি সংবাদ সংস্থা ছিল, যা বর্তমানে বন্ধ। অথচ মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ ও বাস্তবতা তুলে ধরতে ওআইসির একটি শক্তিশালী গণমাধ্যমব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বে শক্তিশালী টেলিভিশন, পত্রিকা, ম্যাগাজিন কিংবা সংবাদ সংস্থার ঘাটতি রয়েছে। এ বাস্তবতায় নতুন এ মিডিয়া প্ল্যাটফর্মটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও অরাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হবে। গণমাধ্যমের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে কাজ করাই এর মূল লক্ষ্য।

তাজিমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ মুহাম্মদ ইকবাল বলেন, আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা যেন নতুন বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর অবদান রাখতে পারেন, সে জন্য গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। কেবল সরকার কিংবা অন্য কাউকে দোষারোপ না করে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাকির ভাইয়ের প্রতিষ্ঠিত আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনকে প্রকৃত অর্থে ঐক্যবদ্ধ উম্মাহর প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

করডোভা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল সাব্বির আহমেদ বলেন, গঠনমূলক কোনো কাজ করতে চাইলে গণমাধ্যমই হচ্ছে প্রথম ও প্রধান মাধ্যম।

সিনিয়র সাংবাদিক সালেহ আহমেদ ৯২ বছর বয়সী এক প্রবীণের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ক্যামেরার সামনে কিংবা পেছনে দাঁড়ালেই একজন ব্যক্তি সামাজিক মুখপাত্রে পরিণত হন। তাই গণমাধ্যমকর্মীদের নিজেদের সামাজিক মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, একজন সামাজিক মুখপাত্রের ওপর বিশাল দায়িত্ব থাকে। এ দায়িত্ব পালনের জন্য প্রচুর পড়াশোনা, সঠিক জ্ঞান ও বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা প্রয়োজন। গণমাধ্যমকর্মীদের এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উপলব্ধি করা উচিত।

লেখক ও কলামিস্ট ড. ইকবাল কবির মোহন বলেন, মানসম্মত ও দক্ষ লেখক তৈরির পাশাপাশি তাদের লেখাকে যথাযথভাবে সম্পাদনার জন্য দক্ষ সম্পাদকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সম্পাদনা প্যানেল গড়ে তুলতে হবে। লেখার মান, তথ্যের নির্ভুলতা ও সাংবাদিকতার পেশাগত মান নিশ্চিত করতে কঠোর সম্পাদনা প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ঢাকা তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল ড. খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, দিনের সূচনাই হয় ‘ঘুম অপেক্ষা সালাত উত্তম’—এই আহ্বানের মাধ্যমে। মানুষের জীবন অর্থনীতি ও অর্থকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হলেও এ বিষয়ে প্রচলিত বিভিন্ন ধারণা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি কোরআনের আয়াত ‘তোমরা কি তা অঙ্কুরিত কর, নাকি আমি তা করি?’ উদ্ধৃত করে সম্পদ ও অর্থনীতি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আল-উম্মাহর সঙ্গে যুক্ত সবাই মিলে জাতির সামনে প্রকৃত, তথ্যবহুল ও সত্যনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সমাজ ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে অবদান রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা।

বক্তারা আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশন, জার্নাল ও ওয়েবসাইটের সফলতা কামনা করেন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার জন্য সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন, মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক পুনর্জাগরণ, গবেষণা সহযোগিতা, দায়িত্বশীল গণমাধ্যম এবং বৈশ্বিক সংলাপের গুরুত্বের ওপরও আলোকপাত করা হয়। বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহযোগিতার সমন্বয়ের মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন, শান্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেবল আবেগনির্ভর নয়, বরং গবেষণানির্ভর ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা থেকেই আল-উম্মাহর যাত্রা শুরু হয়েছে। জার্নালটি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ, বিশ্লেষণমূলক নিবন্ধ, নীতিপত্র, মতামতভিত্তিক লেখা এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির ওপর বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক আলোচনার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে চায়।

বর্তমানে বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও তুর্কি—এই চার ভাষায় আল-উম্মাহ প্রকাশিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি ভাষা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে আয়োজকরা জানান। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের গবেষক ও চিন্তাবিদদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময় ও বুদ্ধিবৃত্তিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করার পাশাপাশি ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত সংযোগ ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরিতে এ প্ল্যাটফর্ম কাজ করবে বলে তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন